ঢাকা

বেতন পেতে অনলাইনে তথ্য হালনাগাদ করুন: মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি নির্দেশনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতাধীন এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এখন থেকে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্ধতিতে সরাসরি ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। সরকারের গভর্নমেন্ট টু পারসন (জি-টু-পি) উদ্যোগের আওতায় চালু হওয়া এই ব্যবস্থার জন্য সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষক-কর্মচারীকে আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য হালনাগাদ করার নির্দেশ দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

অধিদপ্তরের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নির্ধারিত ফরমে সঠিক ও হালনাগাদ তথ্য পূরণ করে জমা দিতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র, এমপিও তথ্য এবং শিক্ষাগত সনদের সঙ্গে তথ্যের কোনো অসামঞ্জস্য থাকলে ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা প্রদান সম্ভব হবে না।

যেভাবে শুরু হবে তথ্য হালনাগাদ

অধিদপ্তরের নির্ধারিত ফরমে প্রথমে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার নাম ও ইআইআইএন (EIIN) নম্বর উল্লেখ করতে হবে। এরপর প্রতিষ্ঠানপ্রধান—অধ্যক্ষ বা সুপারের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে তথ্য পূরণের কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

প্রত্যেক শিক্ষক ও কর্মচারীকে এমপিও শিটে থাকা প্রিফিক্স-সংবলিত ইনডেক্স নম্বর ইংরেজিতে লিখতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ব্যক্তিগত সব তথ্য হুবহু প্রদান করতে হবে।

যেসব ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে

ফরমে আবেদনকারীর নাম বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় লিখতে হবে। একইভাবে পিতা ও মাতার নামও বাংলা এবং ইংরেজিতে উল্লেখ করতে হবে।

এ ছাড়া জন্মতারিখ DD/MM/YYYY ফরম্যাটে ইংরেজিতে লিখতে হবে। জন্মতারিখ অবশ্যই এমপিও কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং দাখিল বা সমমানের সনদে একই থাকতে হবে।

জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ইংরেজিতে দিতে হবে। ১০ বা ১৭ অঙ্কের এনআইডি নম্বর সরাসরি ব্যবহার করা যাবে। তবে যাদের ১৩ অঙ্কের পুরোনো জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে জন্মসালের চার অঙ্ক যোগ করে সেটিকে ১৭ অঙ্কে রূপান্তর করে লিখতে হবে।

নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, পদবি, বিষয় (যদি বিষয় না থাকে, তাহলে ইংরেজিতে "Null" লিখতে হবে), বেতন কোড, যোগদানের তারিখ এবং প্রথম এমপিওভুক্ত হওয়ার তারিখও নির্ধারিত ফরম্যাটে উল্লেখ করতে হবে।

ব্যাংক হিসাবের যেসব তথ্য প্রয়োজন

ইএফটির মাধ্যমে বেতন পাঠানোর জন্য ব্যাংক-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্যও দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

বর্তমানে যে ব্যাংক থেকে এমপিওর বেতন উত্তোলন করা হয়, সেই ব্যাংকের নাম।
সংশ্লিষ্ট শাখার নাম।
জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ব্যাংক হিসাবধারীর নাম (ইংরেজিতে)।
ডিজিটাল ব্যাংক হিসাব নম্বর।
সংশ্লিষ্ট শাখার রাউটিং নম্বর।

অধিদপ্তর বলেছে, ব্যাংক হিসাবের তথ্য সঠিক না হলে বেতন প্রেরণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই তথ্য পূরণের সময় বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

যেসব কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হবে

আবেদনের সঙ্গে কয়েকটি প্রয়োজনীয় নথির ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে। এগুলো হলো—

জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।
প্রথম এবং সর্বশেষ এমপিও শিটের ফটোকপি।
ব্যাংক চেক বইয়ের প্রথম পাতার (কভার পেজ) ফটোকপি।

ফরমে আবেদনকারীর স্বাক্ষরের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানপ্রধানের স্বাক্ষর ও প্রত্যয়নও থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে প্রত্যয়ন করতে হবে যে আবেদনকারী প্রদত্ত তথ্য সঠিক এবং যাচাই করা হয়েছে।

তথ্যের মিল না থাকলে মিলবে না ইএফটির বেতন

মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর বিশেষভাবে জানিয়েছে, আবেদনকারীর নাম ইংরেজিতে জাতীয় পরিচয়পত্র এবং দাখিল বা সমমানের সনদে অভিন্ন থাকতে হবে। একইভাবে জন্মতারিখ ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যও জাতীয় পরিচয়পত্র, এমপিও রেকর্ড এবং শিক্ষাগত সনদের সঙ্গে মিল থাকতে হবে।

কোনো তথ্যের অসামঞ্জস্য ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক বা কর্মচারীর ইএফটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে না এবং বেতন-ভাতা প্রাপ্তিতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করে জমা দেওয়ার জন্য এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স