ঢাকা

জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস তুলে ধরে ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটিতে প্রতিরোধ দিবস উদ্‌যাপন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও অর্জনকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ধারণ ও লালনের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা। তাঁদের মতে, একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র গঠনে তরুণদের নাগরিক সচেতনতা, মূল্যবোধ এবং নেতৃত্বের বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাসে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে স্মৃতিচারণা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

রোববার (১৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, আত্মত্যাগ ও অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং সেই চেতনা ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরী। তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন শুধু একটি রাজনৈতিক ঘটনাই নয়, এটি তরুণ সমাজের সাহস, ঐক্য এবং গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এই আন্দোলনের চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে জাগ্রত রাখতে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, দায়িত্বশীল নাগরিকত্ব এবং ইতিবাচক নেতৃত্বের বিকাশ অপরিহার্য।

আলোচনা পর্বে আন্দোলনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জুনাইদুর রহমান খান ও বুশরা করিম তাইন। তাঁরা আন্দোলনের দিনগুলোর বিভিন্ন স্মৃতি, চ্যালেঞ্জ, ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা তুলে ধরে বলেন, সেই সময় শিক্ষার্থীদের ঐক্য, সাহস ও আত্মবিশ্বাস একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তিতে পরিণত হয়েছিল। তাঁদের মতে, ইতিহাসের সেই অধ্যায় নতুন প্রজন্মকে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করবে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ডিজিটাল ইনোভেশনের প্রভাষক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি জুলাই আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য বিশ্লেষণ করে বলেন, জাতি গঠনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ভবিষ্যতেও দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র এবং সামাজিক অগ্রগতিতে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাসের প্রভোস্ট মেজর আহমেদ সুমন সুবহান (অব.) বলেন, একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে সচেতন, সমাজমনস্ক ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের ওপর। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কেবল জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র নয়, বরং আদর্শ নাগরিক ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম ভিত্তি। তিনি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আত্মত্যাগ এবং আন্দোলনের চূড়ান্ত সাফল্য নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি আন্দোলনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের স্থিরচিত্র নিয়ে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়, যা উপস্থিত শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।

স্মৃতিচারণা, আলোচনা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন। আয়োজনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অবদান স্মরণ করার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং দেশ গঠনে তরুণদের ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স