ঢাকা

শাবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীকে মারধর: বিক্ষোভে ফুঁসে উঠলেন শিক্ষার্থীরা, কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) হলের ক্যানটিনের খাবারের মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করাকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। ঘটনার প্রতিবাদ, অভিযুক্তদের শাস্তি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন বিভাগের শতাধিক শিক্ষার্থী এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

গোলচত্বর থেকে ক্যাম্পাসজুড়ে বিক্ষোভ

বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা গোলচত্বর থেকে মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেতনা-৭১ স্থাপনা, নতুন সামাজিক বিজ্ঞান ভবনসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার গোলচত্বরে এসে শেষ হয়।

মিছিল চলাকালে শিক্ষার্থীরা **“আমার ভাইয়ের ওপর হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই”, “সন্ত্রাসীদের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও”**সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরে গোলচত্বরে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।

হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের পর হামলার অভিযোগ

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ১৬ জুলাই শাহপরান হলের ক্যানটিনের খাবারের নিম্নমান নিয়ে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে মন্তব্য করেন সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার।

এর জেরে ১৮ জুলাই রাতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহদপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পরপরই ওই রাত এবং পরদিনও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন। পরে বিষয়টি তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটিকে মঙ্গলবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

‘আর কোনো শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে মার খেতে দেখতে চাই না’

সমাবেশে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ হোসেন বলেন, তাঁরা ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষার্থীকে অন্যায়ভাবে নির্যাতনের শিকার হতে দেখতে চান না।

তিনি বলেন, “আমরা আমাদের ভাইদের অন্যায়ভাবে প্রকাশ্যে আর কোনো মার খেতে দেখতে চাই না। সন্ত্রাসীদের এখনই দমন করার সময় এসেছে। আমরা এখানে ন্যায়বিচার চাইতে এসেছি। আমরা বিশ্বাস করতে চাই, বর্তমানে যাঁরা প্রশাসনে আছেন, তাঁরা ন্যায়বিচার করবেন। ন্যায়বিচারে বিলম্ব হলে আমরা কর্মসূচি চালিয়ে যাব।”

‘বিচার না হলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন’

একই সমাবেশে অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবরার বিন ছলিম বলেন, হামলার ঘটনার তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, “আগামীকাল মঙ্গলবার সেই সময় শেষ হবে। যদি আমরা ন্যায়বিচার না পাই, তাহলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”

শিক্ষার্থীদের দাবি, তদন্ত শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।

তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে নজর

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন মঙ্গলবার জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তদন্তের ফলাফল ও প্রশাসনের পদক্ষেপের ওপর তাঁদের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ভর করবে। নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন, মানববন্ধন ও অন্যান্য কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

ঘটনাটি কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের দাবি, মতপ্রকাশের কারণে কোনো শিক্ষার্থী হামলার শিকার হলে তা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্যও বড় হুমকি। তাই দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় এনে ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স