ঢাকা

ইরান সংঘাতে মার্কিন সেনাদের বড় ক্ষয়ক্ষতি, আহত ৬০০–এর বেশি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬২৪ জন মার্কিন সেনা আহত এবং ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো যুদ্ধাহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়ে গেল।

তবে হতাহতের তথ্য প্রকাশের জন্য নতুন রিপোর্টিং পদ্ধতি চালুর পর তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ, নতুন কাঠামোর মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। যদিও পেন্টাগন এ অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে সাময়িক তথ্যগত সমস্যার ফল বলে দাবি করেছে।

নতুন রিপোর্টিং পদ্ধতি চালু

গত রোববার মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর হতাহত সেনাদের তথ্য উপস্থাপনের জন্য একটি নতুন রিপোর্টিং পদ্ধতি চালু করে।

নতুন ব্যবস্থায় হতাহতের পরিসংখ্যানকে দুটি পৃথক বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ‘ওভারসিজ অপারেশনস’।

পেন্টাগনের ভাষ্য, এই পদ্ধতির উদ্দেশ্য বিভিন্ন সামরিক অভিযানের তথ্য আরও সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করা। তবে সমালোচকদের মতে, এতে সামগ্রিক হতাহতের প্রকৃত চিত্র বোঝা আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।

নতুন তথ্যে যা জানা গেছে

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মোট ৬২৪ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। একই সময়ে নিহত হয়েছেন ১৮ জন।

এ ছাড়া ৭ জুলাইয়ের পর থেকে নতুন করে ২০৭ জন মার্কিন সামরিক সদস্য আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৮২ জন সেনাবাহিনীর সদস্য, বাকিরা অন্যান্য শাখার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

তবে প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ জুলাইয়ের পর আহত ব্যক্তিদের মধ্যে অন্তত ৯৬ শতাংশ ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে পুনরায় দায়িত্বে ফিরে গেছেন।

তথ্য গোপনের অভিযোগ

নতুন হিসাব পদ্ধতি প্রকাশের পরই তা নিয়ে ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একাধিক সিনেটর হতাহতদের তথ্য দুই ভাগে ভাগ করার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, এতে যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র জনসাধারণের সামনে অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

ইউরোপে মার্কিন বাহিনীর সাবেক কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল বেন হজেস প্রকাশ্যে এই হিসাবের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

অন্যদিকে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচক থমাস ম্যাসি নতুন এই পদ্ধতিকে ‘হাস্যকর চালাকি’ বলে মন্তব্য করেছেন।

তাঁদের অভিযোগ, হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আড়াল করতেই এই নতুন কাঠামো চালু করা হয়েছে।

পেন্টাগনের ব্যাখ্যা

সমালোচনার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা বলেছেন, তথ্য উপস্থাপনের ক্ষেত্রে যে অসঙ্গতি দেখা গেছে, তা ইচ্ছাকৃত নয়।

তাঁদের দাবি, এটি একটি ‘সাময়িক তথ্যগত বিভ্রাট’ এবং নতুন রিপোর্টিং ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য আনতে কাজ চলছে।

পেন্টাগনের কর্মকর্তারা আশ্বাস দিয়েছেন, খুব শিগগিরই পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলো সংশোধন করে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল তথ্য প্রকাশ করা হবে।

হামলা আপাতত স্থগিত

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গোলাবারুদের ঘাটতির আশঙ্কায় গত তিন দিন ধরে ইরানে মার্কিন বাহিনীর হামলা বন্ধ রয়েছে।

তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

যুদ্ধের মানবিক মূল্য নিয়ে নতুন আলোচনা

ইরান যুদ্ধের শুরু থেকে হতাহত মার্কিন সেনাদের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধের মানবিক মূল্য, সামরিক কৌশল এবং সরকারের তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পেন্টাগনের তথ্য প্রকাশের নতুন পদ্ধতি নিয়েও রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স