ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী শিক্ষক সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘নীল দল’ তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধের দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত চার সদস্যের কমিটিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে সংগঠনটি।
শনিবার ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক জিনাত হুদার সই করা এক বিবৃতিতে নীল দল দাবি করে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার দাবি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে উত্থাপিত হয়েছে। এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নীল দলের ভূমিকা নিয়ে উদ্দেশ্যমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সংগঠনটির ভাষ্য, বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক অভিযোগ এনে নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে।
নীল দলের মতে, সাদা দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য, দুই সহ-উপাচার্য এবং সাদা দলের আহ্বায়ককে নিয়ে যে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নেতিবাচক নজির তৈরি করবে। তাদের আশঙ্কা, এই ধরনের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে যেকোনো শিক্ষক সংগঠন বা মতাদর্শভিত্তিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে এবং শিক্ষকদের স্বাধীন মতপ্রকাশ ও পেশাগত অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সংগঠনটি আরও দাবি করে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। গত দুই বছরে ভিন্নমতের কারণে বহিষ্কার, প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও তদন্ত কমিটির মাধ্যমে শিক্ষকদের হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে ১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশের উল্লেখ করে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে সংগঠন গঠনের অধিকার রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘদিন ধরে নীল, সাদা ও গোলাপি—বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ে সহাবস্থান করে আসছে।
নীল দলের মতে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব হলো আইন, বিধি ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে শিক্ষকদের স্বাধীনতা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করা। ভয়ভীতি, চাপ কিংবা কথিত ‘মব সংস্কৃতির’ মাধ্যমে শিক্ষকদের চাকরি বা পেশাগত অবস্থান ঝুঁকির মুখে ফেলা হলে তা শিক্ষকসমাজ গ্রহণ করবে না বলেও তারা সতর্ক করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই বিএনপিপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ উপাচার্যের কাছে একটি স্মারকলিপি দিয়ে নীল দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়। সেখানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান, স্বৈরতান্ত্রিক শাসনকে সমর্থন এবং দীর্ঘ সময় ধরে ক্যাম্পাসে ভিন্নমতের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়।