ঢাকা

অস্ট্রেলিয়ার নতুন নীতিতে অফশোর আবেদনকারীরা পিছিয়ে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নতুন মিনিস্ট্রিয়াল ডিরেকশন ১১৯ (Ministerial Direction 119) জারি করে দক্ষ অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াকরণে অগ্রাধিকারের কাঠামো পুনর্বিন্যাস করেছে। নতুন এই নির্দেশনার ফলে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থানরত (অফশোর) হাজারো দক্ষ পেশাজীবী ও অভিবাসনপ্রত্যাশীর জন্য ভিসা পাওয়ার অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে। বিপরীতে, অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে (অনশোর) অবস্থানরত আবেদনকারীরা উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবেন।

এই সিদ্ধান্তকে বিশ্লেষকেরা দেশটির অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক চাপ এবং অভিবাসীর সংখ্যা কমানোর কৌশলের অংশ হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে আসন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অভিবাসন ইস্যুতে জনমতের প্রেক্ষাপটে সরকার ভিসা প্রক্রিয়াকরণে নতুন অগ্রাধিকার ব্যবস্থা কার্যকর করেছে।

অনশোর আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ভিসা প্রক্রিয়াকরণে আবেদনকারীদের পেশা ও অবস্থানের ভিত্তিতে পাঁচটি অগ্রাধিকার স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রতিরক্ষা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীরা। এরপর রয়েছে একই খাতের অফশোর আবেদনকারীরা।

তৃতীয় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও নির্মাণ খাতের দক্ষ কর্মীদের। চতুর্থ স্থানে রয়েছেন অনশোরে থাকা অন্যান্য সব আবেদনকারী।

অন্যদিকে, সর্বশেষ অগ্রাধিকার তালিকায় রাখা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বাইরে অবস্থানরত অন্যান্য সব ভিসা আবেদনকারীকে। ফলে বিদেশে অবস্থান করে দক্ষ অভিবাসনের আবেদন করা ব্যক্তিদের জন্য অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অফশোর আবেদনকারীদের জন্য কী পরিবর্তন

গত কয়েক বছরে অস্ট্রেলিয়া দক্ষ জনবল সংকট মোকাবিলায় বিদেশে থাকা চিকিৎসক, নার্স, শিক্ষক, প্রকৌশলী ও দক্ষ কারিগরদের দ্রুত ভিসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু নতুন নির্দেশনার ফলে সেই সুবিধা কার্যত সীমিত হয়ে যাচ্ছে।

এখন থেকে অনশোর আবেদনকারীদের আগে বিবেচনা করা হবে। ফলে বিদেশে অবস্থানরত যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষমাণ থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আবেদন নিষ্পত্তির নির্দিষ্ট সময়সীমাও অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ

অফশোর আবেদনকারীদের জন্য সিদ্ধান্তটি হতাশাজনক হলেও অস্ট্রেলিয়ায় অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যেসব শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন এবং পড়াশোনা শেষে দেশটির শ্রমবাজারে প্রবেশ করবেন, তাঁদের জন্য স্থায়ী বসবাসের (পিআর) পথ তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।

বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নির্মাণসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে পারলে তাঁদের আবেদন দ্রুত বিবেচিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

এছাড়া ‘ওয়ার্কিং হলিডে’ বা অন্যান্য বৈধ ভিসার মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়ায় প্রবেশ করে পরবর্তীতে অনশোর থেকে আবেদন করার প্রবণতাও বাড়তে পারে। নতুন নীতির মাধ্যমে সরকার কার্যত এমন একটি বার্তা দিচ্ছে—প্রথমে অস্ট্রেলিয়ায় এসে কাজ বা পড়াশোনা করুন, এরপর স্থায়ী অভিবাসনের আবেদন করুন।

আঞ্চলিক ব্যবসা ও নিয়োগকর্তাদের উদ্বেগ

নতুন নীতির প্রভাব শুধু অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অস্ট্রেলিয়ার আঞ্চলিক এলাকায় ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং নিয়োগকর্তারাও এ সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারেন।

অনেক প্রতিষ্ঠান বিদেশে থাকা দক্ষ কর্মীদের মনোনয়ন দিয়ে নিয়োগের পরিকল্পনা করে থাকে। কিন্তু অফশোর আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার কমে যাওয়ায় এসব নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হতে পারে। বিশেষ করে এমপ্লয়ার–স্পনসরড ভিসার ক্ষেত্রে অফশোর আবেদনকারীদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

যাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় যেতে চান, তাঁদের জন্য বার্তা

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নীতির পর অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষা, চাকরি কিংবা স্থায়ী অভিবাসনের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের জন্য কৌশল পুনর্বিবেচনা করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু পেশাগত যোগ্যতা নয়, আবেদনকারী অস্ট্রেলিয়ার ভেতরে নাকি বাইরে অবস্থান করছেন—সেটিও ভিসা প্রক্রিয়াকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য অনশোর অবস্থান ভবিষ্যতে স্থায়ী অভিবাসনের ক্ষেত্রে আরও বড় সুবিধা এনে দিতে পারে।

নতুন এই নীতিগত পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার দক্ষ অভিবাসন ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এতে বিদেশে অবস্থানরত আবেদনকারীদের জন্য প্রতিযোগিতা যেমন কঠিন হবে, তেমনি অস্ট্রেলিয়ায় আগে থেকেই অবস্থানরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য স্থায়ী অভিবাসনের সুযোগ তুলনামূলকভাবে আরও শক্তিশালী হতে পারে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স