ঢাকা

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদ শাকিলের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাল ছাত্র ফেডারেশন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে নিহত ছাত্র ফেডারেশনের নেতা জুলফিকার আহমেদ শাকিলের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। শুক্রবার তাঁর দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ভোলার সদর উপজেলার ভেলু মিয়া ইউনিয়নে তাঁর সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁরা।

জুলফিকার আহমেদ শাকিল ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় ৪ আগস্ট রাজধানীর মিরপুরে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর ৭ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

শহীদ শাকিলের দ্বিতীয় শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলায় বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে ছাত্র ফেডারেশন। সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ভোলা জেলা পরিষদ মিলনায়তনে তাঁর স্মরণে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‘শাকিলের আত্মত্যাগ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক’

স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈকত আরিফ। বক্তব্যে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি করেছিল। রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক ব্যবস্থার নানা সংকট মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মানুষ জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

সৈকত আরিফ বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের মধ্যে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। তাঁর অভিযোগ, নতুন ব্যবস্থার কথা বলা হলেও কার্যত পুরোনো ব্যবস্থারই পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক জীবনে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি। রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে কিছু কাগুজে ও প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়ে সীমাবদ্ধ করেছে। ফলে অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ যে পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

ছাত্র ফেডারেশনের এই নেতা বলেন, মানুষের সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণের লড়াইয়ে জুলফিকার আহমেদ শাকিলের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে। তাঁর মতে, গণ–অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ শুধু স্মরণ করার বিষয় নয়; তাঁদের প্রত্যাশিত সমাজ ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের সঙ্গেও তা যুক্ত।

মিরপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু

জুলফিকার আহমেদ শাকিল ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করলে তিনি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

৪ আগস্ট রাজধানীর মিরপুর এলাকায় আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হন শাকিল। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েক দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৭ আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়।

শাকিলের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে ছাত্র ফেডারেশনের একজন সক্রিয় সংগঠকের জীবনাবসান ঘটে। এরপর থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে তাঁর স্মরণে কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

স্মরণসভায় স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা

শুক্রবারের স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি সৈকত আরিফ। সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফারহানা মানিক মুনা সভাটি সঞ্চালনা করেন।

সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম চরনওয়াবাদ মুসলিম হাইস্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক আবু তাহের, ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা মহানগর শাখার আহ্বায়ক আল-আমীন রহমান এবং ভোলা জেলা সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি আরাফাত ইসলামসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতারা।

এর আগে ভোলার সদর উপজেলার ভেলু মিয়া ইউনিয়নে জুলফিকার আহমেদ শাকিলের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা। তাঁরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে তাঁর আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবে। শহীদদের স্মৃতিকে ধারণ করার পাশাপাশি তাঁদের প্রত্যাশিত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স