সিলেট নগরের রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকায় একই পরিবারের দম্পতি ও তাঁদের গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। নিহত দম্পতির যুক্তরাজ্যপ্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা শুক্রবার রাতে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করেন। এজাহারে তিনি অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলা তুলে নেওয়ার চাপের জেরে পরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তাঁর বাবা-মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, নিহত এম এ সাত্তার ১৯৯৭ সালে সিলেটের পুলিশ লাইনস লুসাই গির্জা সমিতির কাছ থেকে রিকাবীবাজারের সরফপুর এলাকায় প্রায় ১২ শতক জমি ইজারা নিয়ে বসবাস শুরু করেন। পরে ২০০৬ সালে ইম্পালস বিজনেস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম ওই জমিসহ সমিতির আরও কিছু জমি নিজের প্রতিষ্ঠানের নামে দলিল করে মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে তাঁদের বাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সেলিনা সুলতানা জানান, জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর বাবা ২০১৬ সালে সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এরপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে ও তাঁর বাবাকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ বিষয়ে তাঁর বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে বলা হয়েছে, জমি-সংক্রান্ত একাধিক মামলা এখনো আদালতে চলমান। এসব মামলা প্রত্যাহারের জন্য সিরাজুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে তাঁর বাবা ও তাঁকে হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সেলিনা।
মামলায় ২০২৫ সালের ২৯ জানুয়ারির একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন সিরাজুল ইসলাম, আমিন হোসেনসহ কয়েকজন তাঁদের বাসায় গিয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেন বলে অভিযোগ। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের মধ্যে তর্ক হয় এবং একপর্যায়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে তাঁরা চলে যান। পরে এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন সেলিনা।
এজাহার অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ২৮ ও ৩০ জুলাই আদালত চত্বরে এম এ সাত্তারকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি দেওয়া হয়। এসব বিরোধ ও ধারাবাহিক হুমকির কারণেই পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে বাদীর সন্দেহ। তাঁর অভিযোগ, হত্যার পর বাড়ি থেকে জমি-সংক্রান্ত দলিল, বিভিন্ন কাগজপত্র ও সাধারণ ডায়েরির কপিও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গত বুধবার বেলা ১১টার দিকে রায়নগর মিতালি আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে আবদুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনার (২০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাঁদের প্রত্যেকের শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।
শুক্রবার বিকেলে সিলেট নগরের শাহি ঈদগাহ মাঠে নিহত দম্পতির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাঁদের মানিক পীর কবরস্থানে দাফন করা হয়।
নিহত আবদুস সাত্তারের এক ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছেন। তাঁদের সবাই প্রবাসে বসবাস করেন। ছেলে ও এক মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এবং অন্য দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে থাকেন। আবদুস সাত্তার একসময় নগরের কালীঘাট এলাকায় পাইকারি পণ্যের ব্যবসা করতেন। পরবর্তীতে আম্বরখানা এলাকায় মানি এক্সচেঞ্জ ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাঈনুল জাকির জানান, নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে নিহত আবদুস সাত্তারের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধের বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।