ঢাকা

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সিদ্ধান্ত, এনটিআরসিএর মাধ্যমেই নিয়োগ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কাছ থেকে পরিচালনা কমিটির হাতে দেওয়ার আলোচনা থেকে সরে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে আগের পদ্ধতিই বহাল থাকছে। অর্থাৎ, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ হবে এনটিআরসিএর পরীক্ষা ও সুপারিশের মাধ্যমে।

এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের প্রিলিমিনারি বা বাছাই পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা ও মৌখিক পরীক্ষা—এই তিন ধাপের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। নিয়োগপ্রক্রিয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির সরাসরি নিয়োগের সুযোগ থাকছে না।

মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত এক সভায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল রাখার সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হয় মন্ত্রণালয়।

পরিচালনা কমিটির হাতে নিয়োগের আলোচনা থেকে সরে মন্ত্রণালয়

বর্তমানে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ হয় এনটিআরসিএর নিবন্ধন পরীক্ষা, পরবর্তী নিয়োগ পরীক্ষা এবং সুপারিশের ভিত্তিতে। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ কিছু পদে এত দিন পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হতো।

সম্প্রতি এসব পদেও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন ব্যবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদেও এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে এসব পদের লিখিত পরীক্ষাও প্রায় পাঁচ মাস আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে লিখিত পরীক্ষা শেষ হলেও এখনো মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়নি।

এর মধ্যেই সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা এনটিআরসিএর কাছ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক নিয়োগব্যবস্থা আবার আগের কাঠামোয় ফিরে যাবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। ফলে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় নিয়োগব্যবস্থাই বহাল থাকছে।

তিন ধাপের পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ

নতুন করে পরিচালনা কমিটির হাতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা না দেওয়ায় প্রার্থীদের আগের মতোই পরীক্ষার কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে।

নিয়োগপ্রক্রিয়ার ধাপগুলো হলো—

প্রিলিমিনারি বা বাছাই পরীক্ষা
লিখিত পরীক্ষা
মৌখিক পরীক্ষা

এই তিন ধাপের পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে এনটিআরসিএ।

এর ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ও অভিন্ন পরীক্ষাব্যবস্থা বজায় থাকবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটির পৃথকভাবে শিক্ষক বাছাই ও নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ থাকছে না।

প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগেও পরিবর্তন

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শুধু সহকারী শিক্ষক নয়, প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগ নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এত দিন অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষক-সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হলেও সম্প্রতি এসব পদেও এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এরই মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় পাঁচ মাস আগে অনুষ্ঠিত ওই লিখিত পরীক্ষার পর এখনো মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এসব পদের মৌখিক পরীক্ষা শিগগিরই নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ জন্য মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ভাইভা বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।

অর্থাৎ, লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে অপেক্ষায় থাকা প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষার আয়োজন এখন সামনে আসছে।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান

সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পরিচালনা কমিটির হাতে দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা শুরু হওয়ায় প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে এনটিআরসিএর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা কেন্দ্রীয় নিয়োগব্যবস্থায় পরিবর্তন এলে নিয়োগের ধরন, পরীক্ষা এবং প্রার্থীদের প্রতিযোগিতার কাঠামোও পরিবর্তিত হতে পারত।

তবে মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ অবস্থানে সেই সম্ভাবনা আপাতত থাকছে না। ফলে সহকারী শিক্ষক পদে চাকরিপ্রত্যাশীদের জন্য এনটিআরসিএর নিয়োগ পরীক্ষাই প্রধান পথ হিসেবে বহাল থাকছে।

এতে নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয়ভাবে পরীক্ষা গ্রহণ, ফলাফল প্রকাশ এবং যোগ্য প্রার্থীদের সুপারিশ করার বর্তমান কাঠামো অব্যাহত থাকবে।

এনটিআরসিএর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ। নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই এবং পরবর্তী নিয়োগপ্রক্রিয়ায় মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন—এই কাঠামোর মধ্য দিয়েই বিপুলসংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়ে আসছে।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা পরিচালনা কমিটির হাতে না দেওয়ার ফলে শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় ভূমিকা অব্যাহত থাকল।

অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সহকারী প্রধান পদেও এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের উদ্যোগ কার্যকর হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নিয়োগব্যবস্থার পরিধি আরও বাড়বে।

এখন প্রধান ও সহকারী প্রধান পদে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষার পর মৌখিক পরীক্ষা কবে অনুষ্ঠিত হবে এবং নিয়োগপ্রক্রিয়া কখন শেষ হবে—সেদিকেই নজর রয়েছে প্রার্থীদের।

সব মিলিয়ে, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পরিচালনা কমিটির হাতে নিয়োগক্ষমতা দেওয়ার যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, তা আপাতত আর এগোচ্ছে না। এনটিআরসিএর মাধ্যমেই সহকারী শিক্ষক নিয়োগের বিদ্যমান পদ্ধতি বহাল থাকছে এবং প্রার্থীদের বাছাই, লিখিত ও মৌখিক—তিন ধাপের পরীক্ষার মাধ্যমেই নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স