ঢাকা

লং মার্চের শুরুতেই শফিকুর রহমানের মন্তব্য, ‘কর্মসূচির ওষুধ কাজ করতে শুরু করেছে’

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, বিরোধী জোটের চলমান কর্মসূচির প্রভাব ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় এর ‘ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া’ দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

শনিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের চট্টগ্রাম অভিমুখী লং মার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের কর্মসূচির ওষুধ ইতিমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।’

তিনি বলেন, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেললে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিরোধী জোটের কর্মসূচি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে কঠোর পদক্ষেপ বা বাধার কথা বলা হলেও তা নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন নন বলে জানান তিনি।

বাধা এলেও লং মার্চ চলবে

লং মার্চের পথে কোনো ধরনের বাধাকে পরোয়া করা হবে না বলে জানিয়েছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন এবং অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি, জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব।’

শফিকুর রহমান আরও বলেন, রাজপথের পাশাপাশি জাতীয় সংসদেও তাঁদের আন্দোলন চলবে। দেশের কোটি মানুষের প্রত্যেকটি অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।

ছয় দফা দাবিতে লং মার্চ

বিরোধী জোটের ঘোষিত ছয় দফা দাবিকে সামনে রেখে এই লং মার্চের আয়োজন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।

জোটের নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এসব দাবিকে কেন্দ্র করে ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবেই রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত এই লং মার্চ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

শফিকুর রহমান বলেন, ঘোষিত ছয় দফার সঙ্গে আরও একটি দাবি যুক্ত করা হবে। নতুন এই দাবিতে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরেন তিনি।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘কোনো চাঁদাবাজ এবং দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বরদাশত করা হবে না।’

এর মাধ্যমে বিরোধী জোটের কর্মসূচিতে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থানকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের পথে

শনিবার সকালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে উদ্বোধনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লং মার্চ শুরু হয়। কর্মসূচির চূড়ান্ত গন্তব্য চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান। সেখানে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে লং মার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

রাজধানী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ এই কর্মসূচির পথে পাঁচটি স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এসব পথসভায় জোটের নেতারা তাঁদের দাবিগুলো তুলে ধরবেন এবং কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন।

লং মার্চকে ঘিরে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সকাল থেকেই জোটের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের সমাগম ঘটে। উদ্বোধনী সমাবেশে জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর জোর

শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে বারবার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বিচার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, জ্বালানি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সংকট নিরসনের পাশাপাশি প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দলীয়করণ বন্ধের দাবি গুরুত্ব পায়।

তিনি বলেন, জনগণের অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্য অনুযায়ী, রাজপথের কর্মসূচির পাশাপাশি জাতীয় সংসদেও এসব দাবি নিয়ে সক্রিয় থাকবে বিরোধী জোট। অর্থাৎ রাজপথের আন্দোলনকে সংসদীয় কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত রাখার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন বার্তা

ছয় দফার সঙ্গে সপ্তম দফা হিসেবে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা জানান শফিকুর রহমান। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতি এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দেওয়াই এ বক্তব্যের মূল বিষয়।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজকে তাঁরা মেনে নেবেন না।

বিরোধী জোটের এই লং মার্চের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন ঘোষিত দাবিগুলো সামনে আনা হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরিরও চেষ্টা করা হচ্ছে। শফিকুর রহমানের বক্তব্যে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জনগণের অধিকার আদায়ে দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলনের ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

রাজধানীর শাপলা চত্বর থেকে শুরু হওয়া এই লং মার্চ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। পথে পাঁচটি স্থানে পথসভা এবং শেষ পর্যায়ে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স