ঢাকা

আসিফের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান, ‘এভাবে দুদকের দলীয়করণই স্পষ্ট’: এনসিপি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধানের খবরে ক্ষোভ জানিয়েছে দলটি। এনসিপির অভিযোগ, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের এক নেতার পরিচালিত অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দুদক এই অনুসন্ধান শুরু করেছে। দলটির দাবি, এ ধরনের তৎপরতা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর মাধ্যমে দুদকের দলীয়করণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

আজ সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন এসব অভিযোগ করেন।

বিবৃতিতে এনসিপির নেতারা অভিযোগ করেন, পতিত আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ছড়ানো গুজব ও রাজনৈতিক প্রচারণাকে ভিত্তি করে দুদককে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নেতাদের রাজনৈতিকভাবে হেয় ও হয়রানি করার উদ্দেশ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

দলটির ভাষ্য, কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যদি নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠনের কর্মীদের তথ্যসূত্রহীন সংবাদ বা প্রচারণার ভিত্তিতে অনুসন্ধান শুরু করে, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে। আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে মনে করে এনসিপি।

‘রাজনৈতিক হয়রানির উদ্দেশ্যে তৎপরতা’

বিবৃতিতে এনসিপি আরও দাবি করে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের রাজনৈতিকভাবে হেয় করার পাশাপাশি তাঁদের হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের তৎপরতা শুরু হয়েছে।

দলটির মতে, দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অনুসন্ধান ও তদন্তের নিজস্ব আইনগত প্রক্রিয়া থাকা প্রয়োজন। নিরপেক্ষ ও যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে কোনো অভিযোগের তদন্ত হলে তাতে আপত্তির কারণ নেই। কিন্তু রাজনৈতিক প্রচারণা বা গুজবের ভিত্তিতে রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠান তৎপর হলে সেটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনআস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

এনসিপি বলেছে, তারা কোনো ধরনের দুর্নীতির তদন্তের বিরোধিতা করে না। বরং একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষে দলটি অবস্থান করছে।

‘স্বাধীন দুদকের তদন্তে সহযোগিতা করবে এনসিপি’

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের বিষয়ে আপত্তি জানালেও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ দুদকের যেকোনো তদন্তে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে এনসিপি।

যৌথ বিবৃতিতে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেন বলেন, জুলাই সনদে ঘোষিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী স্বাধীন ও নিরপেক্ষ দুদক পুনর্গঠন করা হলে যেকোনো অভিযোগের তদন্তে তাঁরা সহযোগিতা করবেন।

দলটি মনে করে, দুর্নীতি দমনের জন্য একটি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন। দুদকের কার্যক্রমে রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে বলেও তারা মনে করছে।

জুলাই সনদ অনুযায়ী দুদক পুনর্গঠনের দাবি

জুলাই সনদের আলোকে স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত দুর্নীতি দমন কমিশন পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে এনসিপি। দলটির বক্তব্য, দুদককে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করতে হলে এর কাঠামো ও কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

এনসিপি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, তাদের এসব দাবি পূরণ না হলে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

একই সঙ্গে বর্তমান সরকারকে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের পথ অনুসরণ না করার আহ্বান জানিয়েছে দলটি। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে হয়রানি না করারও দাবি জানানো হয়েছে।

এনসিপির নেতাদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন বা হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হলে তা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে প্রত্যাশিত রাজনৈতিক পরিবর্তনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে। তাই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানসহ এ ধরনের সব তৎপরতায় নিরপেক্ষতা ও আইনগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স