ইরান–সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের নতুন করে উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলছে। কয়েক দিন ধরে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর পাশাপাশি হুতিরা লোহিত সাগরে ইয়েমেনের পুরো উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা দখলের দাবিও করেছে তারা।
একই সঙ্গে বাব আল–মানদেব প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে হুতিরা। আরব সাগর থেকে এডেন উপসাগর হয়ে লোহিত সাগরে প্রবেশের প্রধান পথ এই সংকীর্ণ প্রণালি। ফলে সেখানে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে হুতিদের এই তৎপরতা ওয়াশিংটনের জন্যও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল–মানদেবকে ঘিরে দ্বিতীয় একটি অস্থিতিশীল ফ্রন্ট তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্রকে একসঙ্গে একাধিক সামরিক ও কূটনৈতিক চাপ সামলাতে হতে পারে।
কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল–মানদেব
হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি বাব আল–মানদেবও বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্য ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ। আরব সাগর থেকে এডেন উপসাগর পেরিয়ে লোহিত সাগরে যেতে হলে এই সরু প্রণালি ব্যবহার করতে হয়। লোহিত সাগর হয়ে সুয়েজ খাল দিয়ে ইউরোপের দিকে যাওয়া জাহাজগুলোর জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ।
ইরান যুদ্ধের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য বাব আল–মানদেবের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে সমুদ্রপথে তেল রপ্তানি অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে বিকল্প রুট হিসেবে লোহিত সাগর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
এ অবস্থায় বাব আল–মানদেবে হুতিদের হামলা শুধু সৌদি আরবকেই নয়, আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
হুতিরা সৌদি আরবে হামলা করছে কেন
ইয়েমেনের উত্তর–পশ্চিমাঞ্চলের বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণকারী হুতিরা দীর্ঘদিন ধরে সামরিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ২০১৪ সালে তারা রাজধানী সানা দখল করলে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এর পরের বছর, ২০১৫ সালের মার্চে, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান শুরু হয়।
দীর্ঘ এই সংঘাতে ইয়েমেনে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয় এবং কয়েক লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট হুতিদের ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বহালের চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত গোষ্ঠীটিকে পরাজিত করা সম্ভব হয়নি।
২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গাজায় হামাসের সমর্থনে বাব আল–মানদেব ও লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে হুতিরা আবার আন্তর্জাতিকভাবে বড় আলোচনায় আসে। জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং বিস্ফোরকবোঝাই স্পিডবোট ব্যবহারের পাশাপাশি সমুদ্রপথে মাইন পেতে নৌ চলাচল ব্যাহত করার সক্ষমতাও তাদের রয়েছে।
সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক এডমুন্ড ফিটন–ব্রাউন মনে করেন, তেহরানের সঙ্গে সমন্বয় করেই হুতিরা কাজ করছে। তাঁর মতে, কয়েক মাস ধরে সমুদ্রে হামলা চালানোর পর হুতিরা হয়তো মনে করছে, সৌদি আরবকে দেওয়া তাদের হুমকিগুলো বাস্তবে যাচাই করার সময় এসেছে।
ফিটন–ব্রাউনের ভাষ্য, হুতিরা হয়তো মনে করছে সৌদি আরব দীর্ঘ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলেছে এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে নিজেদের দুর্বল অবস্থান প্রকাশ করেছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের দাবিদাওয়া আরও জোরালো করার চেষ্টা করছে তারা।
ট্রাম্পের আগের অভিযান কেন ব্যর্থ হয়েছিল
২০২৫ সালে লোহিত সাগর যুক্তরাষ্ট্র ও হুতিদের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল। ইরানের নেতৃত্বাধীন ‘প্রতিরোধ অক্ষশক্তি’র অংশ হিসেবে হুতিরা আন্তর্জাতিক জাহাজে হামলা বাড়ালে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত ‘অপারেশন রাফ রাইডার’-এর লক্ষ্য ছিল হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত, ড্রোন এবং সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা। অভিযানে ইয়েমেনে আট শতাধিক স্থানে হামলা চালানো হয় এবং এতে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়।
তবে বিপুল অর্থ ব্যয় ও অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের পরও অভিযানটি হুতিদের সামরিক সক্ষমতাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারেনি। ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি, বিকল্প অবকাঠামো এবং ইরানের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে হুতিরা তাদের সক্ষমতা ধরে রাখে। বরং পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে হামলার মাত্রা আরও বাড়ায়।
এমনকি মার্কিন যুদ্ধজাহাজও তাদের হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ফলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আধিপত্যের জন্য হুতিদের সক্ষমতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে আসে।
অভিযান শুরুর প্রায় দুই মাসের মাথায়, ৬ মে ২০২৫, ট্রাম্প ইসরায়েলকে পাশ কাটিয়ে হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এরপর কিছু সময়ের জন্য লোহিত সাগরের পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ইরান যুদ্ধের পর আবার সক্রিয় হুতিরা
ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আবার বদলে যায়। তেহরানের সমর্থনে হুতিরা নতুন করে সক্রিয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি বাব আল–মানদেবের আশপাশে সৌদি আরবের তেলবাহী জাহাজ ও ট্যাংকারে হামলার মাত্রাও বেড়েছে।
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো। এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি ভূখণ্ডে এটিকে সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চ্যাথাম হাউসের সহযোগী ফেলো লিন্ডসে নিউম্যানের মতে, এই হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান বৃহত্তর সংঘাতেরই অংশ।
তিনি বলেন, ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এখনো কতটা প্রতিরোধক্ষমতা ধরে রেখেছে, সেটিই বড় প্রশ্ন। হামাস ও হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত করা গেলেও হুতিদের সামরিক শাখাকে নিয়ন্ত্রণ করা তুলনামূলকভাবে আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
কূটনৈতিক সমাধান কি এখনো সম্ভব
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ হুতিদের হামলার নিন্দা করলেও বলেছেন, কূটনীতির পথ এখনো বন্ধ হয়নি।
তিনি বলেন, সৌদি আরব সব সময় কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে থাকবে। তবে নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় দেশটি পিছপা হবে না এবং প্রয়োজন হলে দায়িত্ব পালনে সব ধরনের উপায় ব্যবহার করবে।
অন্যদিকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের জয়েন্ট ফোর্সেস কমান্ড হুতিদের ‘শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা’ করার অঙ্গীকার করেছে।
তবে সৌদি বিশ্লেষক আলী শিহাবি হুতিদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, সৌদি আরব বুঝতে পেরেছে যে হুতিরা যুক্তিসংগত আচরণ করছে না। ফলে তাদের সঙ্গে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন।
সৌদি আরব কি একা লড়বে
হুতিদের মোকাবিলায় সৌদি আরব এখন আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতার দিকেও তাকাচ্ছে। ফিটন–ব্রাউনের মতে, সৌদি আরব পাল্টা লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার আওতায় একটি নৌ জোট গঠনের বিষয়ও সামনে এসেছে। তবে এখনো আঙ্কারা ও ইসলামাবাদ রিয়াদের সহায়তায় সরাসরি এগিয়ে আসেনি।
এর পাশাপাশি ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে হুতিদের মোকাবিলায় আঞ্চলিক ঐক্য গড়ে তোলাও সহজ হবে না।
সর্বশেষ উত্তেজনার মধ্যে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান ওয়াশিংটনে ফোন করে হুতিদের মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন বলে কয়েকটি মার্কিন গণমাধ্যমে খবর এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামনে নতুন ফ্রন্ট
হুতিদের সাম্প্রতিক হামলা ওয়াশিংটনের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি সামনে এনেছে—ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি লোহিত সাগর ও বাব আল–মানদেবের নিরাপত্তা কতটা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্র অতীতে হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করেছে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ওয়াশিংটনের রয়েছে। কিন্তু ব্যাপক আকারে নতুন অভিযান শুরু করা হলে তা মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি ও সেনাসমাবেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
ফিটন–ব্রাউনের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংঘাতকে আলাদা আলাদা করে দেখার সুযোগ কমে আসছে। আঞ্চলিক দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব চাইছে এবং তারা মনে করছে, বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সংঘাত পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাঁর মতে, সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক আইন কার্যকর রাখতে সৌদি আরব একা সক্ষম না হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় একটি জোট গঠনের উদ্যোগ নিতে হবে। লোহিত সাগর বা সৌদি আরবের ওপর হুতিদের তৈরি করা হুমকি উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটনের জন্যই আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন ঘিরেও শঙ্কা
হুতিদের সাম্প্রতিক তৎপরতার সঙ্গে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটকে দেওয়া এক বক্তব্যে হুতিবিরোধী ইয়েমেনি একটি সূত্র দাবি করেছে, সংঘাতের পেছনে সৌদি আরবের পূর্ব থেকে পশ্চিমে বিস্তৃত ইস্ট–ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে লোহিত সাগর উপকূল পর্যন্ত বিস্তৃত এই পাইপলাইন দেশটির তেল রপ্তানির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ। পাইপলাইনটির মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা যায়। ইউরোপের বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা রয়েছে।
সম্প্রতি ইরান–সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী পাইপলাইনের একটি অংশে হামলা চালানোর পর সৌদি আরব শুক্রবার ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় বলে ওই সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ইসরায়েল কি নতুন করে যুদ্ধে জড়াবে
সবশেষে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে সহায়তা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে কি না।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের বর্তমান বাস্তবতায় হুতিদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তেহরান ইয়েমেনে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার, সামরিক উপদেষ্টা, মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন–সংক্রান্ত সরঞ্জাম পাঠিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রের দাবি।
এ অবস্থায় হুতিদের হামলা অব্যাহত থাকলে ইসরায়েল তাদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সরাসরি হামলা শুরু করতে পারে। আর তা হলে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পাশাপাশি ইয়েমেনকে ঘিরে আরেকটি বড় রণাঙ্গন খুলে যেতে পারে।
ফলে হুতি–সৌদি সংঘাত এখন আর কেবল ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যকার পুরোনো বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। হরমুজ ও বাব আল–মানদেব—মধ্যপ্রাচ্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথকে ঘিরে সংঘাত একসঙ্গে তীব্র হলে এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলেও।
তথ্যসূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট, রয়টার্স ও আল–জাজিরা
নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক