ঢাকা

ইউপি নির্বাচন সাত ধাপে, ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপের ভোটের সম্ভাবনা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপের ভোট আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে পারে। এর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন। পর্যায়ক্রমে আগামী বছরের মে মাস পর্যন্ত ইউপি নির্বাচন চালানোর পরিকল্পনা করেছে কমিশন।

আজ সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

ইসি সূত্রের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোটের তারিখ ১২ নভেম্বর। এরপর দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর এবং চতুর্থ ধাপে আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি ভোট হতে পারে। পঞ্চম ধাপের সম্ভাব্য তারিখ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপের ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এসব তারিখ এখনো চূড়ান্ত নয়। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত ও তফসিল ঘোষণার পরই ভোটের তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হবে।

সাত ধাপে ভোটের পরিকল্পনা

নির্বাচন কমিশনের বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি হলো—

প্রথম ধাপ: ১২ নভেম্বর
দ্বিতীয় ধাপ: ১৩ ডিসেম্বর
তৃতীয় ধাপ: ৩০ ডিসেম্বর
চতুর্থ ধাপ: আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি
পঞ্চম ধাপ: ৪ ফেব্রুয়ারি
ষষ্ঠ ধাপ: ২২ এপ্রিল
সপ্তম ধাপ: ২৭ মে

সাত ধাপে ভোট আয়োজনের মাধ্যমে দেশের ইউনিয়ন পরিষদগুলোর নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়েছে কমিশন। ধাপভিত্তিক নির্বাচন হলে একসঙ্গে সারা দেশে ভোট আয়োজনের চাপ কমবে এবং পর্যায়ক্রমে প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ব্যবস্থাপনার সুযোগ থাকবে।

অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পরিকল্পনা ছিল

এর আগে নির্বাচন কমিশন চলতি বছরের আগস্টে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে নিজেদের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল। তখন অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।

তবে নির্ধারিত সময়ে অক্টোবর থেকে নির্বাচন শুরু হচ্ছে না। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথমে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের দিকে এগোচ্ছে কমিশন।

এর আগে গত জুনে জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তৎকালীন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর থেকে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে। তবে সেই সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন শুরু করা সম্ভব হয়নি।

পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন

দেশে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়াও পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন—এই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা হলো, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের শুরুতেই ইউনিয়ন পরিষদের ভোট আয়োজন করা। এরপর পরিস্থিতি ও প্রস্তুতি অনুযায়ী অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।

ইউনিয়ন পরিষদ দেশের স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে বিস্তৃত কাঠামোগুলোর একটি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে ভোটার, প্রার্থী, নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বড় ধরনের প্রস্তুতি জড়িত। এ কারণে একাধিক ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে ইসি।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি

ইউপি নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু হলে পরবর্তী সময়ে পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচন আয়োজনের পথ তৈরি হবে। কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন কখন হবে, তা কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করবে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচনের প্রথম ধাপের সম্ভাব্য ভোটের তারিখ ১২ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সাত ধাপে ভোট আয়োজনের যে পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে আগামী বছরের ২৭ মে সপ্তম ধাপের ভোটের মধ্য দিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ হতে পারে।

তবে ভোটের চূড়ান্ত সময়সূচি, তফসিল এবং কোন কোন ইউনিয়নে কোন ধাপে ভোট হবে—এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স