ঢাকা

মেসেজিং থেকে পেমেন্ট—‘সুপার অ্যাপ’ ম্যাক্সে রুশদের ফোনে ক্রেমলিনের প্রবেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
দ্য গার্ডিয়ান

রাশিয়ায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ, সরকারি সেবা ও আর্থিক লেনদেনের জন্য দ্রুত জনপ্রিয় করে তোলা হচ্ছে ‘ম্যাক্স’ নামের একটি অ্যাপ। রুশ কর্তৃপক্ষ এটিকে টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের দেশীয় বিকল্প হিসেবে তুলে ধরলেও সাম্প্রতিক একটি ফরেনসিক গবেষণায় অ্যাপটির বিস্তৃত তথ্য-অ্যাক্সেস ও নজরদারি সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

গবেষকদের দাবি, ম্যাক্স শুধু একটি বার্তা আদান–প্রদানের অ্যাপ নয়; এর সঙ্গে যুক্ত ‘মিনি অ্যাপ’ ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ডিভাইস ও সেখানে থাকা বিভিন্ন তথ্যের ওপর ব্যাপক প্রবেশাধিকার তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, এই কাঠামোকে রাষ্ট্রীয় নজরদারির একটি সম্ভাব্য অবকাঠামো হিসেবেও ব্যবহার করা সম্ভব।

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের সহযোগী অধ্যাপক রয়া এনসাফির নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় ম্যাক্সের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এনসাফির ভাষ্য, রাশিয়ার ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক দশকের গবেষণায় তাঁরা যে কৌশলগুলো দেখেছেন, ম্যাক্স তার মধ্যে বিশেষভাবে বিস্তৃত ও উদ্বেগজনক একটি উদাহরণ।

তবে গবেষণাটি ম্যাক্স ব্যবহার করে রুশ সরকার বাস্তবে কী মাত্রায় নজরদারি চালাচ্ছে, তার প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেয়নি। বরং অ্যাপটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ বা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে, সেটিই গবেষণার মূল বিষয়।

এক অ্যাপে যোগাযোগ, ব্যাংকিং ও সরকারি সেবা

ম্যাক্স মূলত রাশিয়ার তৈরি একটি ‘সুপার অ্যাপ’। অর্থাৎ একই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল সেবা যুক্ত করা হয়েছে। এতে রয়েছে মেসেজিং, আর্থিক লেনদেন এবং সরকারি সেবার পাশাপাশি নানা ধরনের ‘মিনি অ্যাপ’।

অ্যাপটি তৈরি করেছে রাশিয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি ভিকোনতাকতে (ভিকে)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। ভিকে রুশ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ম্যাক্সকে দেশটির নিজস্ব ডিজিটাল অবকাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

রুশ কর্তৃপক্ষ ম্যাক্সকে টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের বিকল্প হিসেবে প্রচার করছে। দেশটির জনপ্রিয় শিল্পী, র‍্যাপার ও বিনোদন জগতের তারকারাও বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও ভিডিওতে অ্যাপটির প্রচারণা চালিয়েছেন।

ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই ম্যাক্সের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি অ্যাপটির ব্যবহার নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে এর গোপনীয়তা ও তথ্য-নিরাপত্তা ঘিরে।

গবেষণায় যে তথ্য উঠে এসেছে

এনসাফির গবেষক দল রাশিয়ায় ব্যবহৃত ম্যাক্সের একটি সংস্করণ বিশ্লেষণ করে অ্যাপটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা পরীক্ষা করেছে। গবেষকদের দাবি, অ্যাপটি ব্যবহারকারীর অজান্তে ডিভাইসের স্ক্রিনের ছবি ধারণ এবং এর সঙ্গে যুক্ত মিনি অ্যাপগুলোর তথ্য সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতে পারে।

গবেষণার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হিসেবে তাঁরা দেখেছেন, মিনি অ্যাপগুলোর সঙ্গে ম্যাক্সের সংযোগ। এসব মিনি অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করেন। ফলে একই প্ল্যাটফর্মে ব্যক্তিগত বার্তা, আর্থিক লেনদেন ও অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এনসাফির ভাষ্য, ম্যাক্সের এই কাঠামো ব্যবহারকারীর পুরো ‘মিনি অ্যাপ ইকোসিস্টেমে’ একটি সম্ভাব্য প্রবেশদ্বার তৈরি করে।

গবেষকেরা আরও বলেছেন, মিনি অ্যাপের মধ্যে ক্ষতিকর কোড প্রবেশ করানোর সুযোগ থাকলে এই অবকাঠামো শুধু তথ্য সংগ্রহ নয়, সাইবার হামলার ক্ষেত্রেও ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তবে এ ধরনের সক্ষমতা থাকার অর্থ এই নয় যে রুশ সরকার ইতিমধ্যে ম্যাক্স ব্যবহার করে এসব কাজ করছে। গবেষণাটি মূলত অ্যাপটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে।

‘ডিজিটাল কর্তৃত্ববাদের ব্লুপ্রিন্ট’

রয়া এনসাফির মতে, ম্যাক্সকে শুধু একটি মেসেজিং অ্যাপ হিসেবে দেখলে এর গুরুত্ব বোঝা যাবে না। একই প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ, সরকারি সেবা ও আর্থিক কার্যক্রম যুক্ত করার ফলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল অবকাঠামো তৈরি হতে পারে।

তিনি বলেন, কর্তৃত্ববাদী সরকারগুলো নাগরিকদের ওপর নজরদারি চালাতে যে ধরনের প্রযুক্তিগত কৌশল ব্যবহার করে আসছে, ম্যাক্স তার একটি উন্নত রূপের উদাহরণ হতে পারে।

এনসাফির মতে, এই মডেল ভবিষ্যতে ইরান, কাজাখস্তান বা ভারতের মতো দেশগুলোর জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হতে পারে—যদি তারা একই ধরনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।

তবে তাঁর এই মূল্যায়ন একটি গবেষকের বিশ্লেষণ; ম্যাক্সকে অন্য দেশগুলো অনুসরণ করবে—এমন কোনো নিশ্চিত পরিকল্পনার তথ্য এতে নেই।

ব্যবহার না করে উপায় নেই—শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ

ম্যাক্সের বিস্তার শুধু প্রচারণার মাধ্যমে হচ্ছে না; রাশিয়ার সরকারি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত অনেক মানুষকে অ্যাপটি ব্যবহারে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

মস্কোর এক স্কুলশিক্ষক জানান, নগর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার পর তাঁদের স্কুলের শিক্ষক-কর্মীদের যোগাযোগ ম্যাক্সে স্থানান্তর করতে বলা হয়।

ওই শিক্ষক বলেন, স্কুলের প্রধান গত বছরের মার্চে তাঁদের জানান, এরপর থেকে অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ, শিক্ষার্থীদের বাড়ির কাজ পাঠানো এবং অন্যান্য প্রশাসনিক যোগাযোগ ম্যাক্সের মাধ্যমেই করতে হবে।

তাঁর ভাষায়, ‘না’ বলার বাস্তব সুযোগ ছিল না। ফলে শেষ পর্যন্ত অ্যাপটি ব্যবহার করতে হয়েছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী দানিলের অভিজ্ঞতাও একই রকম। শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে তাঁকে ম্যাক্স ডাউনলোড করতে বলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন বা আবাসিক হলে প্রবেশের জন্য ম্যাক্সে তৈরি কিউআর কোড প্রয়োজন হবে বলে তাঁকে জানানো হয়েছিল।

দানিলের কাছে অ্যাপটির গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমে অংশ নিতে অ্যাপটি ব্যবহার না করে তাঁর সামনে কার্যত খুব বেশি বিকল্প ছিল না।

টেলিগ্রাম এখনো পুরোপুরি হার মানেনি

রাশিয়ায় ম্যাক্স দ্রুত জনপ্রিয় হলেও দেশটির তথ্য ও সংবাদ পরিবেশে টেলিগ্রামের অবস্থান এখনো শক্তিশালী।

গণমাধ্যম, ব্লগার ও সরকারি কর্মকর্তারা বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছে সংবাদ ও মতামত পৌঁছে দিতে টেলিগ্রামের পাবলিক চ্যানেল ব্যবহার করেন। ম্যাক্সে এখনো এ ধরনের চ্যানেল ও বৃহৎ জনসম্পৃক্ততার অবকাঠামো টেলিগ্রামের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন ম্যাক্স ব্যবহারকারী জানান, অ্যাপটির নকশা ও ব্যবহার পদ্ধতির সঙ্গে টেলিগ্রামের বেশ কিছু মিল রয়েছে। তবে ম্যাক্সের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ বেশি।

রাশিয়ার মস্কোর ৩৪ বছর বয়সী বাসিন্দা নিকোলাই বলেন, অ্যাপটি ব্যবহার করার সময় তাঁর মনে হয়, কে বা কারা তাঁকে নজরদারি করছে, তা তিনি জানেন না।

তাঁর ভাষ্য, ম্যাক্স দেখতে আধুনিক ও আকর্ষণীয় হলেও এটি ব্যবহারের সময় তাঁর মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়। অন্য অ্যাপগুলোর বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ কমে যাওয়ায় তাঁকে ধীরে ধীরে ম্যাক্সের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

অভিজাতদের জন্য আলাদা ফোন?

রাশিয়ার ক্ষমতাসীন মহলের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর বক্তব্য থেকে অবশ্য ভিন্ন একটি চিত্র পাওয়া যায়।

তাঁদের দাবি, রাশিয়ার অভিজাত শ্রেণির অনেকে ম্যাক্সকে দৈনন্দিন যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন না। তাঁরা এখনো টেলিগ্রাম ও সিগন্যালের মতো অ্যাপ ব্যবহার করছেন।

ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি দ্য গার্ডিয়ানকে জানান, তিনি ও তাঁর কয়েকজন বন্ধু শুধু ম্যাক্স ব্যবহারের প্রয়োজন মেটাতে আলাদা ফোন কিনেছেন। তাঁদের প্রধান ফোনে আগের মতোই পছন্দের মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি বলেন, রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট অনেকের কাছে ম্যাক্সের ব্যবহার মূলত লোকদেখানো; ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য তাঁরা অন্য অ্যাপেই বেশি নির্ভর করেন।

তবে এ বক্তব্য ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া এবং রাশিয়ার পুরো রাজনৈতিক বা ব্যবসায়ী অভিজাত শ্রেণির আচরণকে প্রতিনিধিত্ব করে কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।

চীনের উইচ্যাটের সঙ্গে তুলনা

ম্যাক্সকে বোঝাতে গিয়ে গবেষকেরা প্রায়ই চীনের উইচ্যাটের উদাহরণ টানছেন।

উইচ্যাট একই প্ল্যাটফর্মে যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন, কেনাকাটা, সরকারি সেবা এবং আরও বহু কার্যক্রম যুক্ত করেছে। ফলে চীনের ডিজিটাল জীবনে অ্যাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চীনের ক্ষেত্রে এই অবকাঠামো গড়ে উঠতে কয়েক দশক সময় লেগেছে। রাশিয়ার ম্যাক্সের ক্ষেত্রে একই ধরনের বহুমুখী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তুলনামূলকভাবে দ্রুত তৈরি করা হচ্ছে।

এনসাফির মতে, এই দ্রুত বিস্তারই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পর্যবেক্ষণ হলো, নাগরিকদের ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো যখন এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হয়, তখন সেটি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের জন্যও ব্যবহার করা সম্ভব।

টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের ওপর চাপ

ম্যাক্সের বিস্তারের সঙ্গে রাশিয়ায় বিদেশি মেসেজিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর সরকারি চাপের বিষয়টিও যুক্ত।

রুশ কর্তৃপক্ষ টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে ব্যবহারকারীদের সামনে বিকল্প হিসেবে দেশীয় প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের চাপ বাড়ছে।

এই পরিস্থিতিতে ম্যাক্সের জনপ্রিয়তা শুধু ব্যবহারকারীদের পছন্দের ফল নয়—রাষ্ট্রীয় নীতি ও ডিজিটাল অবকাঠামোর পরিবর্তনও এতে ভূমিকা রাখছে বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করেন।

ফলে প্রশ্নটি শুধু কোন অ্যাপ বেশি জনপ্রিয়, তা নিয়ে নয়। বরং প্রশ্ন হলো, নাগরিকদের যোগাযোগ ও দৈনন্দিন সেবার কতটা অংশ একটি রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ প্ল্যাটফর্মের মধ্যে কেন্দ্রীভূত করা হচ্ছে।

নজরদারির অভিযোগ কতটা প্রমাণিত?

ম্যাক্স নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বাস্তবে রাষ্ট্রীয় নজরদারি—এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা।

এনসাফির গবেষণায় অ্যাপটির এমন কিছু প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কথা বলা হয়েছে, যা ব্যবহারকারীর ডিভাইস ও মিনি অ্যাপের তথ্যের ওপর বিস্তৃত প্রবেশাধিকার তৈরি করতে পারে। কিন্তু এসব সক্ষমতা রুশ সরকার নিয়মিতভাবে নাগরিকদের ওপর নজরদারির কাজে ব্যবহার করছে—এমন প্রত্যক্ষ প্রমাণ গবেষণায় দেখানো হয়নি।

একইভাবে, মিনি অ্যাপের মধ্যে ক্ষতিকর কোড প্রবেশের সম্ভাবনা থাকার অর্থ এই নয় যে রুশ সরকার ম্যাক্সকে ব্যবহার করে সাইবার হামলা চালাচ্ছে। এটি সম্ভাব্য ঝুঁকি হিসেবে গবেষকেরা চিহ্নিত করেছেন।

এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একটি অ্যাপের প্রযুক্তিগত নকশা এবং সেটি বাস্তবে কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে—দুটি আলাদা বিষয়।

ম্যাক্সের সঙ্গে ভিকে ও ক্রেমলিনের সম্পর্ক

ম্যাক্সের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। অ্যাপটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভিকে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর একটি এবং দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জন্য পরিচিত।

ফলে ম্যাক্সকে রাশিয়ার সরকারি ডিজিটাল অবকাঠামোর অংশ হিসেবে দ্রুত সম্প্রসারণ করা নিয়ে গোপনীয়তা ও স্বাধীন যোগাযোগের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

দ্য গার্ডিয়ানের পক্ষ থেকে ম্যাক্স ও ভিকে-র কাছে গবেষণার ফলাফল এবং নজরদারি-সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় তাদের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

রাশিয়ার ইন্টারনেট ব্যবস্থার বড় পরিবর্তন

রাশিয়ায় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ এক দিনে তৈরি হয়নি। গত এক দশকে দেশটির সরকার অনলাইন কনটেন্ট, বিদেশি প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল যোগাযোগের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে বাড়িয়েছে।

ম্যাক্স সেই প্রক্রিয়ার একটি নতুন পর্যায়কে সামনে আনছে—যেখানে শুধু কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ নিষিদ্ধ করা নয়, বরং বিকল্প হিসেবে রাষ্ট্রঘনিষ্ঠ একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে নাগরিকদের সেটির দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

এনসাফির মতে, এ ধরনের পরিবর্তন বিশ্বজুড়ে সতর্কতার কারণ হতে পারে। তাঁর ভাষায়, ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রযুক্তিগত অবকাঠামো বদলে যাচ্ছে এবং একই সঙ্গে কর্তৃত্ববাদী সরকারের নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাও আরও আক্রমণাত্মক হচ্ছে।

রাশিয়ায় ম্যাক্সের দ্রুত বিস্তার তাই কেবল একটি নতুন মেসেজিং অ্যাপের জনপ্রিয় হওয়ার গল্প নয়। এটি দেখাচ্ছে, একটি রাষ্ট্র কীভাবে যোগাযোগ, সরকারি সেবা ও আর্থিক কার্যক্রমকে একই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কেন্দ্রীভূত করতে পারে।

এই ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীর জন্য সুবিধা যেমন রয়েছে—এক জায়গায় বহু সেবা পাওয়ার সুযোগ—তেমনি তথ্যের গোপনীয়তা, নজরদারি এবং রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্নও রয়েছে। ম্যাক্সের ভবিষ্যৎ ভূমিকা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে রাশিয়ার সরকার কীভাবে এ প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে, এর তথ্য-অ্যাক্সেসের সীমা কতটা স্বচ্ছ থাকে এবং ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তার ওপর।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স