ঢাকা

কলেজ-মাদ্রাসায় একাদশের ৬৭ শতাংশ আসনে ভর্তি হয়নি শিক্ষার্থী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
২০২৬–২০২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশের পর চূড়ান্তভাবে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এর বিপরীতে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে মোট ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ২৬ লাখ ১ হাজার ৭৭৯টি। ফলে মাইগ্রেশন ও ভর্তি নিশ্চয়ন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও প্রায় ৬৭ শতাংশ আসন খালি থাকছে।

আজ শনিবার রাতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির মাইগ্রেশনের ফল প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ভর্তির নিশ্চয়ন প্রক্রিয়াও শেষ হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রথম ধাপের আবেদন, নির্বাচন ও নিশ্চয়ন প্রক্রিয়ার মূল কার্যক্রম শেষ হলো।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, মোট ভর্তিযোগ্য আসনের বিপরীতে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৩৩ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত আসনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই এখনো শিক্ষার্থীশূন্য রয়েছে।

এবার কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিল ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ শিক্ষার্থী। আবেদনকারীদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জনকে ভর্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল। তবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সবাই নির্ধারিত সময়ে ভর্তি নিশ্চয়ন করেনি। পরবর্তী সময়ে মাইগ্রেশনসহ বিভিন্ন ধাপ শেষে চূড়ান্তভাবে ভর্তির জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪১ জনে।

মাইগ্রেশনে বদলেছে ৫৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর প্রতিষ্ঠান

মাইগ্রেশনের মাধ্যমে এবার ৫৫ হাজার ৮০৪ শিক্ষার্থীর কলেজ বা মাদ্রাসা পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পছন্দক্রম, ফলাফল ও অন্যান্য প্রযোজ্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এই পরিবর্তন করা হয়েছে।

মাইগ্রেশনের ফলে কোনো শিক্ষার্থী না পাওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও বেড়েছে। প্রথম ধাপে ৪১৬টি কলেজ ও মাদ্রাসায় কোনো শিক্ষার্থী বরাদ্দ পায়নি। মাইগ্রেশনের পর এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫৭টিতে।

অর্থাৎ এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থী সেখানে ভর্তির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়নি। এর ফলে দেশের বিভিন্ন কলেজ ও মাদ্রাসায় আসন খালি থাকার পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীসংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় আবেদনের সুযোগ

প্রথম ধাপের ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরও একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ অব্যাহত থাকবে। ক্লাস শুরু হওয়ার পর আরেক দফায় শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। খালি থাকা আসন পূরণে ওই ধাপে শিক্ষার্থী নির্বাচন ও ভর্তির ব্যবস্থা করা হবে।

তবে পরবর্তী ধাপেও বিপুলসংখ্যক আসন খালি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য যোগ্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ভর্তিযোগ্য আসনের তুলনায় অনেক কম।

এবার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। তাদের মধ্যে ১১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পাস করেছে। অবশ্য এই হিসাবের সব শিক্ষার্থী কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হবে না। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষার্থীদের ভর্তির প্রক্রিয়াও আলাদাভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

ফলে কলেজ ও মাদ্রাসায় একাদশ শ্রেণির বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার পেছনে পাস করা শিক্ষার্থীর তুলনায় আসনসংখ্যা বেশি থাকা অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ভর্তি, ক্লাস শুরু ২৪ সেপ্টেম্বর

প্রথম ধাপে ভর্তির জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি কার্যক্রম আগামী ২০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। তিন দিনের এই ভর্তি কার্যক্রম শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এবারও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। এ জন্য কোনো ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে পুরো ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল, পছন্দক্রম এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা বিবেচনায় নিয়ে ভর্তির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের পছন্দের প্রতিষ্ঠান, তাদের ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট আসনের প্রাপ্যতার সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এবারের ভর্তি প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীর সংখ্যা ১০ লাখের কাছাকাছি হলেও কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট ভর্তিযোগ্য আসন ২৬ লাখের বেশি। সেই হিসাবে আবেদনকারীর তুলনায় আসনসংখ্যা প্রায় আড়াই গুণ। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পছন্দের প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা থাকলেও সামগ্রিকভাবে বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার চিত্রই সামনে এসেছে।

বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের আবেদন কম পড়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী ধাপেও আসন পূরণ করা কঠিন হতে পারে। মাইগ্রেশনের পর ৫৫৭টি প্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে বরাদ্দ না পাওয়ার বিষয়টি সেই চিত্রকেই আরও স্পষ্ট করেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স