ঢাকা

ক্যারিবীয় সাগরে সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌযানে মার্কিন হামলা, নিহত ৪

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রয়টার্স

ক্যারিবীয় সাগরে একটি নৌযানে হামলা চালিয়ে চারজনকে হত্যা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। শনিবার চালানো এই হামলায় নৌযানটি মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তবে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং হামলাটি ক্যারিবীয় সাগরের ঠিক কোন এলাকায় চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাউদার্ন কমান্ড (সাউদার্ন কমান্ড) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু নৌযানটি ‘নারকো-ট্রাফিকিং’ বা মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তাদের দাবি, নৌযানটির মাদক পাচারের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার বিষয়ে তাদের কাছে ‘নিশ্চিত গোয়েন্দা তথ্য’ ছিল। এ অভিযানে চারজন নিহত হয়েছেন।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ঘোষিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ক্যারিবীয় ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব নৌযানকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘নারকো-টেররিস্ট’ বা মাদক-সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত বলে বর্ণনা করা হচ্ছে।

ধারাবাহিক অভিযানের সর্বশেষ হামলা

শনিবারের হামলাটি এ ধরনের মার্কিন সামরিক অভিযানের সর্বশেষ ঘটনা। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর ক্যারিবীয় অঞ্চলে একই ধরনের একটি দ্রুতগামী নৌযানে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল সাউদার্ন কমান্ড। ওই অভিযানে তিনজন নিহত হন বলে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে।

২৫ আগস্টও ক্যারিবীয় সাগরে একটি দ্রুতগামী নৌযানে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছিল মার্কিন বাহিনী। সাউদার্ন কমান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় চারজন নিহত হন। তখনও নৌযানটি মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে বিভিন্ন নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে। কিছু ক্ষেত্রে নৌযান আটক বা জব্দ করা হয়েছে, আবার কিছু অভিযানে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে।

মাদকবিরোধী অভিযানে সামরিক শক্তির ব্যবহার

ট্রাম্প প্রশাসন পশ্চিম গোলার্ধে মাদক পাচারকারী সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে সামরিক ও নিরাপত্তা অভিযান জোরদারের কথা বলে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের অধীনে গঠিত জয়েন্ট টাস্ক ফোর্স ওয়েস্টার্ন হেমিস্ফিয়ার এসব অভিযানে অংশ নিচ্ছে।

সাউদার্ন কমান্ডের সাম্প্রতিক বিবৃতিগুলোতে বলা হয়েছে, তাদের লক্ষ্য হলো মাদক পাচারকারী সংগঠনগুলোর সরবরাহব্যবস্থা, অর্থায়ন ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া। সেপ্টেম্বরে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে কয়েকটি নৌযানকে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নৌযান খালি করার পর সেগুলো ডুবিয়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

তবে প্রাণঘাতী হামলাগুলো নিয়ে মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নও উঠেছে। সমালোচকেরা যুক্তি দিচ্ছেন, মাদক পাচারের অভিযোগে নৌযানে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর পরিবর্তে তাঁদের আটক ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আওতায় আনার সুযোগ থাকা উচিত। এ ধরনের হামলাকে কিছু মানবাধিকার সংগঠন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

নিহতদের পরিচয় ও হামলার বিস্তারিত অজানা

সর্বশেষ হামলা সম্পর্কে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন পর্যন্ত খুব বেশি তথ্য প্রকাশ করেনি। নিহত চারজনের নাম, তাঁদের জাতীয়তা কিংবা নৌযানটির মালিকানা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। একইভাবে হামলার সময় নৌযানটিতে কোনো মাদকদ্রব্য পাওয়া গিয়েছিল কি না, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি।

ফলে নৌযানটি মাদক পাচারের সঙ্গে কতটা প্রত্যক্ষভাবে যুক্ত ছিল, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে থাকা তথ্য মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবির ওপরই নির্ভর করছে। স্বাধীনভাবে সেই দাবির সত্যতা যাচাইয়ের মতো বিস্তারিত তথ্যও এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি।

ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা বাড়ার মধ্যে সর্বশেষ এই হামলা মাদকবিরোধী অভিযানে ওয়াশিংটনের সামরিক শক্তি ব্যবহারের ধারাবাহিকতাই তুলে ধরছে। একই সঙ্গে এসব অভিযানের আইনগত ভিত্তি, নিহতদের পরিচয় এবং সামরিক শক্তি ব্যবহারের মাত্রা নিয়ে বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স