ঢাকা

খালাসের রায়ের পর কারা হাসপাতালে এটিএম আজহারের মিষ্টিমুখ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে সব অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে।

রায়ের খবর কারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আজহারের কাছে পৌঁছালে তিনি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন। এ সময় তাকে মিষ্টিমুখ করানো হয় বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সূত্র।

বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি আপিল বিভাগে সব অভিযোগ থেকে খালাস পেলেন। এর ফলে আজহারুল ইসলামের মুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।

আজহারের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, “প্রথমে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। এটিএম আজহারকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। এটি ছিল বিচারের নামে অবিচারের একটি জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।”

তিনি আরও বলেন, “এই রায়ে সত্যের জয় হয়েছে, মিথ্যা হেরে গেছে। আজহারের ওপর যে প্রক্রিয়া চালানো হয়েছিল, তা ইতিহাসে নজিরবিহীন। এটি আইনি ও নৈতিক দিক থেকে এক ঐতিহাসিক ঘটনার প্রতিফলন।”

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। তিনি ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। তবে আপিল বিভাগ ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে এবং ২০২০ সালের ১৫ মার্চ তার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

পরবর্তীতে ওই বছরের ১৯ জুলাই আজহার রায়ের পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেন। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ রিভিউ শুনানিতে ফের পূর্ণাঙ্গ আপিল শুনানির অনুমতি দেয়, যা ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নজিরবিহীন ঘটনা।

২০১২ সালের ২২ আগস্ট ঢাকার মগবাজারে নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার হন এটিএম আজহারুল ইসলাম। তখন থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন। আপিল বিভাগের আজকের রায়ের ফলে প্রায় ১৩ বছরের বন্দিজীবনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে।

আইনি বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ভবিষ্যতের যুদ্ধাপরাধ মামলার প্রক্রিয়ায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : Deleted

কমেন্ট বক্স