ঢাকা

“২২০০ টাকার নিচে সিলিন্ডার পাওয়া যায় না”—সংসদে রুমিন ফারহানা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বাংলাদেশের জ্বালানি খাত, এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য এবং গ্রামীণ অঞ্চলের গ্যাস সংকট নিয়ে জাতীয় সংসদে তীব্র আলোচনা হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, যিনি গ্যাস সংকট, জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং অবকাঠামোগত বৈষম্য নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে সরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, সরকারের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা হলেও বাস্তবে বাজারে ২ হাজার ২০০ টাকার নিচে কোনো সিলিন্ডার পাওয়া যায় না। তাঁর মতে, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।

তিনি আরও বলেন, রাজধানীতে যেখানে এক থেকে দুই ঘণ্টার লোডশেডিং হয়, সেখানে গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট ১০ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত স্থায়ী হয়। ফলে রান্নার বিকল্প জ্বালানি না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছে।

রুমিন ফারহানা তাঁর নির্বাচনী এলাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়া–এর উদাহরণ টেনে বলেন, গ্যাসসমৃদ্ধ এই জেলাটি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও স্থানীয় মানুষ নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, আশুগঞ্জ ও সরাইল এলাকায় গ্যাস সরবরাহ থাকলেও তা অনিয়মিত এবং চাপ কম থাকায় দিনের বড় অংশ চুলা জ্বালানো সম্ভব হয় না।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সকাল ৭টা থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চাপ থাকলেও পরে তা বন্ধ হয়ে যায়, ফলে রান্নার কাজ ব্যাহত হয়। তাঁর মতে, এই বৈষম্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে।

সংসদে বক্তব্য দিতে গিয়ে রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এটি কীর্তন, বাউলগান এবং সংগীতের সমৃদ্ধ ভূমি, যেখানে জন্ম নিয়েছেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান এবং শচীন দেববর্মন–এর মতো কিংবদন্তিরা। পাশাপাশি তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বাংলাদেশের “শিল্প–সংস্কৃতির রাজধানী” হিসেবেও উল্লেখ করেন।

জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হলেও স্থানীয় মানুষ এর সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একইসঙ্গে তিনি আশুগঞ্জ সার কারখানার বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এর জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতকে চালু রাখতে সীমিত গ্যাস বণ্টন করতে হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, অতীত সরকারের সময় গ্যাস অনুসন্ধানে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, ফলে দেশীয় উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে জ্বালানি খাতে দায়মুক্তি আইন করা হয়েছিল, যা জবাবদিহির ঘাটতি তৈরি করেছে এবং খাতটিকে আমদানিনির্ভর করে তুলেছে। বর্তমান সরকার পরিত্যক্ত গ্যাসক্ষেত্র থেকে অবশিষ্ট গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানান তিনি।

আলোচনার এক পর্যায়ে রুমিন ফারহানা বলেন, আশুগঞ্জ সার কারখানা বন্ধ থাকায় কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং গ্যাস সরবরাহ না পেলে স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এর জবাবে জ্বালানি মন্ত্রী জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদনে কিছু প্রভাব পড়লেও কৃষি খাতকে গুরুত্ব দিয়ে আগামী ১ মে থেকে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে সংসদে জ্বালানি সংকট, এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি এবং গ্রামীণ বৈষম্য নিয়ে এক উত্তপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যা দেশের জ্বালানি নীতির চ্যালেঞ্জগুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স