চট্টগ্রামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, “জ্ঞানের চর্চার জায়গায় কেউ কেন রক্ত ঝরানোর জন্য যাবে”—এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং শিক্ষাঙ্গনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সবার দায়িত্ব।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে একাধিক এসএসসি ও সমমান পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এর আগে তিনি মিরপুর-১০ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, কাজীপাড়া সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসা এবং শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
চট্টগ্রামের সরকারি সিটি কলেজে সাম্প্রতিক সংঘর্ষ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, শিক্ষাঙ্গনে সংঘর্ষে যে রক্ত ঝরে, তা কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের নয়—মানবতার ক্ষতি। তাঁর ভাষায়, “যারই রক্ত ঝরুক, সে তো কারও সন্তান। মা-বাবা সন্তানকে মানুষ হওয়ার জন্য পাঠায়, অমানুষ হওয়ার জন্য নয়।” তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সহিংসতার ক্ষেত্র নয়, বরং জ্ঞানচর্চার নিরাপদ পরিবেশ হিসেবে গড়ে তোলা জরুরি।
তিনি স্পষ্টভাবে এই ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিক্ষাঙ্গনে সংঘর্ষ বন্ধে রাজনৈতিক দলসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে তারা সোচ্চার থাকবেন বলেও জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬–এর চলমান পরিস্থিতি নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, পরীক্ষা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তিনি পরীক্ষার্থীদের সফলতার জন্য দোয়া করেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, একটি জাতির অগ্রগতির জন্য মেধার বিকাশ অপরিহার্য। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে মেধা ও যোগ্যতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
পরিদর্শনের সময় তিনি পরীক্ষাকেন্দ্রের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। কেন্দ্রসচিবদের উদ্দেশে তিনি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরীক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ স্থানীয় নেতারা। পরে জামায়াতের পক্ষ থেকে পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অবস্থানরত অভিভাবক ও পথচারীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা হয়।
সব মিলিয়ে, শিক্ষাঙ্গনে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও পরীক্ষার পরিবেশ—উভয় প্রসঙ্গেই জামায়াত আমিরের বক্তব্যে শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর গুরুত্বারোপ উঠে এসেছে।