লালনসংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীন কিডনির জটিলতায় ভুগছেন ২০১৯ সাল থেকে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে তাঁকে। সম্প্রতি শ্বাসকষ্টজনিত কারণে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। শুরুতে আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হলেও বর্তমানে তাঁকে সাধারণ কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আজ সোমবার সকালে শিল্পীর স্বামী, যন্ত্রসংগীতশিল্পী গাজী আবদুল হাকিম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এদিকে, কয়েকটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফরিদা পারভীনের অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রিয় শিল্পীর অসুস্থতা ও আর্থিক সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনেক ভক্ত ও শ্রোতা। তবে এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ফরিদা পারভীনের ছেলে ইমাম জাফর নোমানি।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ, আমরা ভাইবোনেরা সবাই স্বচ্ছল ও প্রতিষ্ঠিত। মায়ের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয় আমরা নির্বিঘ্নে বহন করছি। এমনকি যদি আমরা না-ও পারতাম, মা নিজেও তাঁর সঞ্চয় থেকে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারতেন।"
তিনি আরও জানান, পরিবারের সদস্যরা সার্বক্ষণিক শিল্পীর পাশে রয়েছেন। “আমার স্ত্রী, বোন, বোনের স্বামীসহ আমরা সবাই মাকে সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করছি,” বলেন তিনি।
ইমাম জাফর নোমানি জানান, ২০১৯ সাল থেকে তার মা কিডনির সমস্যায় ভুগছেন এবং চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডায়ালাইসিস নেওয়ার পর শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে, তবে পরিবার চিকিৎসার কোনো কিছুর কমতি রাখেনি।
তিনি বলেন, “শিল্পীর অসুস্থতার খবরে সরকারের উপদেষ্টা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন কি না জানতে চাওয়া হয়েছে। কিন্তু মা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি এ ধরনের কোনো সহযোগিতা নিতে চান না।”
সবশেষে তিনি বলেন, “যারা বলছেন ফরিদা পারভীন অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না, তারা ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। আপাতত সবার কাছে শুধু দোয়া চাই, যেন মা দ্রুত সুস্থ হয়ে সংগীতের মঞ্চে ফিরতে পারেন।”
নিউজটি আপডেট করেছেন : Deleted