ঢাকা

চালকের অদক্ষতা ও ত্রুটিযুক্ত যানই ফেরিঘাটে বাসডুবির কারণ: সড়ক পরিবহনমন্ত্রী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
চালকের অদক্ষতা, অসচেতনতা এবং ত্রুটিযুক্ত যানবাহনের কারণেই দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির মতো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

রোববার (আজ) দুপুরে রাজবাড়ী পৌরসভা মিলনায়তনে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ আয়োজিত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবিসহ সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চেক বিতরণ এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে গণসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৩ নম্বর ঘাটে বাসডুবি ও জেলার অন্যান্য সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত মোট ৬২ জনের মধ্যে ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

‘ফেরি প্রস্তুত না থাকায় নিয়ন্ত্রণ হারায় বাস’

মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে বাসটি ঘাটে দাঁড়িয়ে ছিল এবং তখন সেটি চলার কোনো কারণ ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ফেরি প্রস্তুত না থাকলেও বাসটি অপ্রত্যাশিতভাবে চলতে শুরু করে। এতে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং যানটি সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, ঘাটে পন্টুন ও অবকাঠামো নির্মাণের সময় সাধারণত যানবাহন প্রতিরক্ষার জন্য আলাদা বেষ্টনী রাখা হয় না, কারণ যানবাহন সরাসরি ফেরিতে ওঠার কথা থাকে। তবে ঘাট ব্যবস্থাপনায় কিছু ত্রুটি ছিল—এ কথা স্বীকার করে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ: চালকের অদক্ষতা

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, দেশে অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে চালকের অদক্ষতা, অসচেতনতা, স্বেচ্ছাচারিতা এবং ত্রুটিযুক্ত যানবাহনই মূল কারণ।

তিনি বলেন, একই সড়কে ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের যান চলাচল, আন্তজেলা এসি ও নন-এসি বাসের প্রতিযোগিতামূলক গতি এবং ট্রাফিক শৃঙ্খলার অভাব দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে।

২৮০০ কোটি টাকার প্রকল্পে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় সরকার ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বলে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি নিয়মিতভাবে চালকদের শারীরিক পরীক্ষা—চোখ, রক্তচাপ এবং মাদকাসক্তি শনাক্তকরণসহ বিভিন্ন পরীক্ষা পরিচালনা করা হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে, তবে এর জন্য সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে।

‘মানুষ নিরাপদ থাকলেই উন্নয়ন অর্থবহ’

অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয় ও সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা শোক লাঘব করতে পারে না, তবে এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ববোধের প্রতীক।

তিনি বলেন, “উন্নয়ন তখনই অর্থবহ, যখন মানুষ নিরাপদ থাকে।” তাই সড়ক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর দাবি

অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যানবাহনের চাপ ও দুর্ঘটনা কমাতে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবি জানানো হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতু বাস্তবায়নে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন।

উপস্থিত ছিলেন যাঁরা

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। আরও উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলমসহ জেলা প্রশাসন, বিআরটিএ কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা।

সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর

বক্তারা দুর্ঘটনা কমাতে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার এবং ঘাট ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা মনে করেন, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স