সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচালিত স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে খাবারের মান নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। কর্মসূচি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি, শৈথিল্য বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদেশটি প্রকল্পভুক্ত দেশের ১৫০টি উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
খাবার গ্রহণের আগে বাধ্যতামূলক যাচাই
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান থেকে খাবার গ্রহণের আগেই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে প্রতিটি খাদ্যসামগ্রী পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নিম্নমানের, পচা বা ত্রুটিপূর্ণ খাবার গ্রহণ বা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা যাবে না।
নির্দেশনায় খাদ্যের মান যাচাইয়ের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
বনরুটি: তাজা, নরম এবং সঠিকভাবে মোড়কজাত হতে হবে। প্যাকেটে পচন, ফাঙ্গাস বা দুর্গন্ধ থাকা যাবে না। উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং নেট ওজন (১২০ গ্রাম) স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।
ডিম: ফাটা, দুর্গন্ধযুক্ত বা পিচ্ছিল ডিম গ্রহণ করা যাবে না।
কলা: দাগমুক্ত, পোকামাকড়বিহীন এবং অতিরিক্ত পাকা বা পচা নয়—এমন কলা সরবরাহ করতে হবে।
ইউএইচটি দুধ ও ফর্টিফাইড বিস্কুট: প্যাকেট অক্ষত থাকতে হবে এবং উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখের পাশাপাশি নেট ওজন উল্লেখ থাকতে হবে।
বিভিন্ন উপজেলা থেকে অভিযোগ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি বিভিন্ন উপজেলা থেকে পচা বনরুটি, নষ্ট ডিম, ছোট আকারের ও পচা কলা বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় একদিকে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
প্রধান শিক্ষকদের জন্য কঠোর নির্দেশনা
আদেশে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের বা ত্রুটিপূর্ণ খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করলে প্রধান শিক্ষক তা গ্রহণ করবেন না। একই সঙ্গে বিষয়টি দ্রুত সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, খাদ্যের মান যাচাই বা অনিয়ম প্রতিরোধে দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না। দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করাই লক্ষ্য
‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানো এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি করা। তাই কর্মসূচির প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কঠোরভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।