জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলাম বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের সঙ্গে আর সম্পৃক্ত থাকা সম্ভব নয় বলে ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রোববার (১৭ মে) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে সর্দার আমিরুল ইসলাম লিখেছিলেন, “আমার পক্ষে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা আর সম্ভব হচ্ছে না।” ওই পোস্টে তিনি দলের রাজনৈতিক অবস্থান ও কৌশল নিয়ে মতপার্থক্যের কথা তুলে ধরেন। এরপর রাত পৌনে একটার দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তাঁর বহিষ্কারাদেশের চিঠি প্রকাশ করা হয়।
শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার
দলীয় চিঠিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গত ৩ মার্চ তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল এবং সতর্কও করা হয়। এরপরও তিনি পুনরায় দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত হন, যা দলীয় নীতিমালা ও গঠনতন্ত্রের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং সদস্যসচিব আখতার হোসেন–এর নির্দেশে তাঁকে সব সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।
ফেসবুক পোস্টে রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কথা
বিকেলে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে সর্দার আমিরুল ইসলাম লিখেছিলেন, গত বছরের জুন মাসে দলের প্রাথমিক লক্ষ্য, আদর্শ ও নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে তিনি বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনকালীন সময়ে ডানপন্থী জোটে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর রাজনৈতিক উৎসাহকে ম্লান করে দেয়। তবে এটিকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করে তিনি জোট থেকে দূরত্ব বজায় রেখে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে যান।
তিনি আরও লিখেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও দলে ডানপন্থী প্রবণতা বাড়তে দেখেছেন। এ কারণে গত দুই মাস তিনি রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিজেকে নিষ্ক্রিয় রাখেন এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। কিন্তু তা গ্রহণ না করে তাঁকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়।
সর্দার আমিরুলের দাবি, যে প্রতিশ্রুতি ও আদর্শের প্রতি আস্থা রেখে তিনি এনসিপিতে যুক্ত হয়েছিলেন, বর্তমান দলীয় কর্মকাণ্ডে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের আশাভঙ্গ এবং দলীয় রণনীতি ও রণকৌশলের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান মতদ্বৈততার কারণেই তিনি দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় রাজনীতিতে
সর্দার আমিরুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি একসময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল–এর কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ছিলেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তিনি এনসিপিতে যোগ দেন।
ভাই হত্যার পর আলোচনায়
২০২৫ সালের ১৩ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান–এ তাঁর ছোট ভাই শাহরিয়ার আলম সাম্য নিহত হন।
সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদল–এর নেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।
সাম্যের মৃত্যুর পর সর্দার আমিরুল ইসলাম বিভিন্ন সময় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসেন। সর্বশেষ এনসিপি থেকে তাঁর বহিষ্কার দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।