‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচি ঠেকাতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা, মেট্রো ও রেল চলাচলে বিধিনিষেধের অভিযোগ; ১০ হাজার কর্মী-সমর্থককে আটকের দাবি সিজেপির, পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্ট
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা (এসআইআর) বন্ধের দাবিতে আজ শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। এই কর্মসূচি ঘিরে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দিল্লিতে আসা এবং বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঠেকাতে রেল, মেট্রো ও সড়ক যোগাযোগে বিধিনিষেধ আরোপ, বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড স্থাপন এবং শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে পুলিশের যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শুধু বিক্ষোভস্থল নয়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের চলাচল নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সিজেপির নেতারা দাবি করেছেন, বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে তাঁদের প্রায় ১০ হাজার কর্মী-সমর্থককে আটক করা হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিক্ষোভ দমনে পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে এবং আন্দোলনে অংশ নিতে ইচ্ছুক তরুণদের ভয় দেখানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, আন্দোলন ঘিরে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে বলেন, মাছি মারতে হাতুড়ি চালানো যায় না। আন্দোলন ঠেকাতে দিল্লি মেট্রোর ৫৭টি স্টেশন বন্ধ রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালত। একই সঙ্গে রেল ও শহরের অভ্যন্তরে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন বিচারপতিরা।
কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, আটক নিয়ে উদ্বেগ
সিজেপির ডাকে ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে বড় ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের ২০ হাজার সদস্যের পাশাপাশি আধা সামরিক বাহিনীর ২৩ হাজার সদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁচ কোম্পানি সশস্ত্র নারী পুলিশ মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর, পশ্চিমবঙ্গ ও ছত্তিশগড় থেকেও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) সদস্যদের আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার জন্য দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলো থেকে কয়েক শ বাস আনা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের আটকে রাখার জন্য দিল্লির বাওয়ানার রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন এলাকার ১০টি স্টেডিয়াম চিহ্নিত করার অভিযোগ উঠেছে।
সিজেপির যুগ্ম আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেছেন, বিজেপিশাসিত বিভিন্ন রাজ্যে তাঁদের প্রায় ১০ হাজার কর্মী-সমর্থককে আটক করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, রাজনৈতিক দল ও সিজেপির সমর্থকদের আটক করা হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষার্থীদের আটক করে ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তাঁদের কোথায় নেওয়া হচ্ছে এবং কী কারণে আটক করা হচ্ছে, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট তথ্য দিচ্ছে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে শুক্রবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, বাধা সত্ত্বেও তাঁদের যন্তর মন্তর অভিযান চলবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, ‘আপনি আমাদের জেলে ঢোকান বা গুলি করুন, আমরা প্রস্তুত। আপনার মানসিক বিকারগ্রস্ত আচরণে আমরা পিছু হটব না।’
দিপকের অভিযোগ, তাঁদের অন্যতম মুখপাত্র দীপক বালিয়ান ও তাঁর ভাইকে রাজস্থান পুলিশ মারধর করেছে এবং আটকে রেখেছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
মেট্রো-রেল চলাচলে বিধিনিষেধের অভিযোগ
বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লির বাইরে থেকে তরুণেরা যাতে রাজধানীতে পৌঁছাতে না পারেন, সে জন্য রেল ও মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ভোর চারটা থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত ১০ ঘণ্টা নয়াদিল্লি, পুরোনো দিল্লি ও নিজামুদ্দিন রেলস্টেশনে ট্রেনের চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্টেশনগুলোতে বিশেষ পুলিশি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, আশপাশের জেলা থেকে সিজেপির কর্মী-সমর্থকদের দিল্লিতে আসা ঠেকাতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দিল্লির মেট্রো চলাচলও সীমিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। শুক্রবার রাত নয়টার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি অ্যাপভিত্তিক ভাড়ার গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং শুক্র ও শনিবার দিল্লির মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ জারির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা, এসব বিধিনিষেধের ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে। তবে রেল, মেট্রো ও অন্যান্য পরিবহনসেবা বন্ধ বা সীমিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
হোটেল-ছাত্রাবাসে তল্লাশি, বাড়ি বাড়ি সতর্ক করার অভিযোগ
বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা তরুণদের অবস্থান শনাক্ত করতে দিল্লির বিভিন্ন হোটেল, ছাত্রাবাস ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকা ব্যক্তিদেরও সতর্ক করা হচ্ছে। হোটেলমালিকদের নতুন বুকিং না নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকার হোটেলমালিকদের বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কম বয়সী বহিরাগত তরুণ-তরুণীদের থাকতে না দেওয়ার জন্যও বিভিন্ন স্থানে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আন্দোলনে অংশ না নিতে সতর্ক করা হচ্ছে বলে সিজেপির নেতারা অভিযোগ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু বার্তায় তরুণদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে হঠকারী সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মসজিদে মসজিদে ইমামদের মাধ্যমে মানুষকে ঘরে থাকার এবং বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইন্টারনেট বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক
যন্তর মন্তর এলাকায় শুক্রবার রাত ১০টা থেকে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ এবং সিজেপির আন্দোলনের সময়ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের মতে, ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে বিক্ষোভের খবর, পুলিশের পদক্ষেপ এবং আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে তাৎক্ষণিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া কঠিন হবে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় তরুণ ও নাগরিক সাংবাদিকদের কার্যক্রম সীমিত করার চেষ্টা চলছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দৃশ্যমানভাবে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লাইভ সম্প্রচারের সময় পুলিশি কাজে বাধা সৃষ্টি না করা এবং নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলার কথাও তাঁদের জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিজেপির আগের যন্তর মন্তর কর্মসূচিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইউটিউবার ও স্বতন্ত্র কনটেন্ট নির্মাতাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল বলে মনে করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের দাবি, এবার এসব মাধ্যমের প্রভাব সীমিত করতেও প্রশাসন তৎপর।
ধ্রুব রাঠি ও প্রকাশ রাজের সমর্থন
সিজেপির ‘যন্তর মন্তর ২.০’ কর্মসূচিতে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি অংশ নেবেন বলে সংগঠনটির নেতারা জানিয়েছেন। আন্দোলনে যোগ দিতে ভারতে এসে ধ্রুব রাঠি বলেন, ‘এটা গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই। ১০ তারিখে কেউ দিল্লি আসতে ভুলবেন না।’
গত ৮ অক্টোবর বেঙ্গালুরুতে ধ্রুব রাঠির পাশে দাঁড়িয়ে দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবির প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, ‘আলি রে আলি, জ্ঞানু, সময় শেষ; এবার তোমার যাওয়ার পালা।’
তবে ধ্রুব রাঠি, প্রকাশ রাজ এবং সিজেপির অন্য নেতারা শেষ পর্যন্ত দিল্লির রাজপথে কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ধরপাকড়ের অভিযোগের কারণে আন্দোলনকারীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, বাধা বা গ্রেপ্তারের মুখেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তাঁর ভাষায়, যন্তর মন্তর অভিযান তাঁরা করবেনই।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আপত্তি
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের পেছনে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরছেন আন্দোলনকারীরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসের শেষ দিকে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর এ আন্দোলন জোরালো হয়। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে দুই নির্বাচন কমিশনার একাধিকবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেই উদ্বেগকে যথাযথ গুরুত্ব দেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এরপর কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো ভোটার তালিকা সংশোধনপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।
সিজেপিও এই দাবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্দোলন শুরু করে। সংগঠনটির নেতাদের বক্তব্য, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং এসআইআর বন্ধ না হলে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
বিরোধী জোটের কর্মসূচি, রাষ্ট্রপতির কাছে অভিযোগ
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’ও কর্মসূচি পালন করছে। শুক্রবার রাতে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলোর কয়েকজন প্রতিনিধি রাষ্ট্রপতি ভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেন।
সেখানে তাঁরা নির্বাচনপ্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার ভোট কারচুপির মাধ্যমে বিজেপিকে ক্ষমতায় রাখছে। তবে এটি বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ; প্রতিবেদনে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে হবে এবং ভোটার তালিকা সংশোধনপ্রক্রিয়া নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। এ দাবির অংশ হিসেবেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
আন্দোলন দমনের অভিযোগ, পাল্টা হুঁশিয়ারি
আন্দোলনের নেত্রী ও সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের ছাত্রসংগঠন আইসার নেত্রী নেহা বোরা কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘গণতন্ত্রের মুখোশের আড়ালে থাকা একজন কাপুরুষোচিত স্বৈরশাসকের অবস্থান এখন সবার সামনে উন্মুক্ত হয়ে গেছে।’
আরেক ভিডিও বার্তায় নেহা বোরা অভিযোগ করেন, সরকার কার্যত জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছে। তিনি ব্রিটিশবিরোধী ভারত ছাড়ো আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সে সময়ও ব্রিটিশ সরকার নেতাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে আটক করেছিল, কিন্তু তাতে আন্দোলন বন্ধ হয়নি। তাঁর বক্তব্য, বর্তমান আন্দোলনও একইভাবে দমন করা যাবে না।
অন্যদিকে, সিজেপির নেতারা জানিয়েছেন, পুলিশি বাধা, আটক কিংবা গ্রেপ্তার—কোনো কিছুতেই তাঁদের কর্মসূচি থামবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধনপ্রক্রিয়া বন্ধের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
শনিবারের কর্মসূচি ঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা, পরিবহন নিয়ন্ত্রণ এবং আটক নিয়ে অভিযোগের মধ্যে এখন মূল প্রশ্ন—আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তরে জড়ো হতে পারবেন কি না এবং তাঁদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারবে কি না।