বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ; সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধ, বিগত শাসনামলের অপরাধের বিচার ও জ্বালানির দাম সহনীয় রাখার দাবি
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দ্রুত বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর বিচার কার্যকর করা, দেশে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দলটি। পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে রাখার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে। সমাবেশে দলটির নেতারা দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সমাবেশে ভারতের উদ্দেশে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, “ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনাকে দ্রুত সময়ে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। আমরা শুধু দাওয়াত খাওয়ার জন্য ভারতে যাব না।”
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবির পাশাপাশি দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অতীতের অপরাধের বিচার কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব বন্ধের বিষয়টিও উঠে আসে।
অতীতের অপরাধের বিচার কার্যকরের দাবি
সমাবেশে জমিয়ত নেতারা অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এসব অপরাধ বন্ধ করে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।
মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
দলটির নেতারা বলেন, অতীতের অপরাধের বিচার শুধু শুরু করলেই হবে না, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তা কার্যকর করতে হবে। তাঁদের মতে, অপরাধের বিচার এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশের স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
গ্যাস-বিদ্যুতের দাম সহনীয় রাখার আহ্বান
সমাবেশে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেলের দাম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এতে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়।
দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহা উদ্দীন যাকারিয়া বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জনগণের আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে এসব পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়। নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই সরকারের নীতিনির্ধারণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় মসজিদের খতিবকে নিয়ে অপপ্রচারের অভিযোগ
সমাবেশে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেককে নিয়েও বক্তব্য দেন জমিয়ত নেতারা। তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তাঁকে ঘিরে কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
নেতারা বলেন, খতিব মুফতি আবদুল মালেকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র হলে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষ তা মেনে নেবে না। এ প্রসঙ্গে তাঁরা বলেন, “আবদুল মালেকের কিছু হলে এ দেশের তৌহিদি জনতা ঘরে বসে থাকবে না।”
তবে তাঁর বিরুদ্ধে কী ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, সে বিষয়ে সমাবেশে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
সন্ত্রাস-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চায় জমিয়ত
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মুফতি মকবুল হোসাইন কাসেমী দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। দেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সাধারণ সম্পাদক মুফতি নূর মোহাম্মদ কাসেমী ও দক্ষিণ শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা বিন ইয়ামিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জয়নুল আবেদীন ও মাওলানা রাশেদ ইলিয়াস, প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী, মাওলানা হেদায়েতুল ইসলাম এবং মাওলানা তাজুল ইসলাম আশরাফীসহ অন্য নেতারা।
সমাবেশে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো, বিগত শাসনামলের অপরাধের বিচার কার্যকর, সন্ত্রাস-চাঁদাবাজি বন্ধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম সহনীয় রাখার দাবিগুলো তুলে ধরেন জমিয়ত নেতারা।