ঢাকা

আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে এনএসইউতে সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের বিশেষ বক্তৃতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য, বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত স্বার্থ ও ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা; সার্বিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন বরিস তাদিচ

সমসাময়িক বিশ্বরাজনীতির পরিবর্তন, বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নানা চ্যালেঞ্জ নিয়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে (এনএসইউ) বিশেষ বক্তৃতা দিয়েছেন সার্বিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বরিস তাদিচ। আলোচনায় বিশ্বের প্রধান শক্তিগুলোর কৌশলগত স্বার্থ, ইউরোপের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পরিবর্তন এবং সংঘাত প্রতিরোধের গুরুত্ব উঠে আসে। পাশাপাশি সার্বিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি কনফারেন্স রুমে ‘জিও-স্ট্র্যাটেজিক অ্যাসপেক্টস অব গ্লোবাল পলিটিকস’ শীর্ষক এ বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিস তাদিচ, যিনি ২০০৪ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সার্বিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০০৩ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ছিলেন। তিনি সার্বিয়ার ডেমোক্রেটিক পার্টির সাবেক নেতাও।

বক্তৃতায় নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক, কৌশলগত স্বার্থ এবং নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন তাদিচ। ইউরোপীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বৈশ্বিক ক্ষমতার পরিবর্তন এবং এর বহুমাত্রিক প্রভাব ব্যাখ্যা করেন।
বিশ্বরাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য ও বড় শক্তিগুলোর ভূমিকা

বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। বড় শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা, সহযোগিতা এবং কৌশলগত স্বার্থের পার্থক্য বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে। এনএসইউর বিশেষ বক্তৃতায় এসব বিষয় গুরুত্ব পায়।

বরিস তাদিচ সমসাময়িক বিশ্বরাজনীতিকে প্রভাবিত করা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যকার সম্পর্কের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন তিনি। এসব শক্তির পারস্পরিক সম্পর্ক শুধু তাদের নিজস্ব স্বার্থের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব পড়ে ইউরোপের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপরও।

পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় বিভিন্ন রাষ্ট্রের অবস্থান ও কৌশলগত অগ্রাধিকার বোঝার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তাদিচ। তাঁর আলোচনায় আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ এবং বড় শক্তিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের প্রভাব অনুধাবনের বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।
সার্বিয়ার পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্ব

বক্তৃতায় সার্বিয়ার ভূরাজনৈতিক অবস্থান ও পররাষ্ট্রনীতির প্রসঙ্গও উঠে আসে। তাদিচ ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে সার্বিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিভিন্ন দেশের স্বার্থ ও অগ্রাধিকার সব সময় এক রকম হয় না। ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক বিবেচনা, পারস্পরিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক বাস্তবতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সার্বিয়ার অভিজ্ঞতার আলোকে এসব সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট।

ইউরোপের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত পরিস্থিতি সার্বিয়ার মতো দেশগুলোর পররাষ্ট্রনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বড় শক্তিগুলোর কৌশলগত স্বার্থ, পারস্পরিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা নীতিনির্ধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে আলোচনায় প্রতিফলিত হয়।
ইউরোপের নিরাপত্তা ও সংঘাত প্রতিরোধ

বক্তৃতায় ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাত নিয়েও আলোচনা করেন বরিস তাদিচ। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, বিভিন্ন অঞ্চলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

সংঘাত বড় আকার ধারণ করার আগেই তা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা রক্ষা, উত্তেজনা প্রশমন এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পায়।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সংঘাত ও উত্তেজনা বৃহত্তর আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ এবং সংঘাত প্রতিরোধের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদিচের বক্তৃতায় ইউরোপের ভূরাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি এসব বৃহত্তর বিষয়ও গুরুত্ব পায়।
রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে বিশ্বরাজনীতির বিশ্লেষণ

বক্তৃতার শুরুতে বরিস তাদিচ নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। প্রাথমিক জীবনে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থেকেও কীভাবে তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নির্বাহী পদে পৌঁছেছিলেন, সে অভিজ্ঞতার কথা বলেন তিনি। পরে সমসাময়িক বিশ্বরাজনীতির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তাঁকে ইউরোপীয় রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার নানা দিক সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বৈশ্বিক ক্ষমতার পরিবর্তন, বড় শক্তিগুলোর স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এ আয়োজন আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে অভিজ্ঞ একজন সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানের দৃষ্টিভঙ্গি জানার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ ও রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক সম্পর্কে আলোচনার ক্ষেত্রও তৈরি হয়।
বৈশ্বিক বিষয় নিয়ে জ্ঞানচর্চার ওপর গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার ইউ আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুর রব খান, স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক এ কে এম আতিকুর রহমান, স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ফিজিক্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক সাজ্জাদ হোসেন এবং স্কুল অব হেলথ অ্যান্ড লাইফ সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক দীপক কুমার মিত্র।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নেছার ইউ আহমেদ এনএসইউ সফর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিষয়ে নিজের অভিজ্ঞতা ও মতামত ভাগ করে নেওয়ার জন্য বরিস তাদিচকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা আমাদের বৈশ্বিক নেতাদের কাছ থেকে শেখার এবং সমসাময়িক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীরভাবে জানার সুযোগ তৈরি করে।’

আন্তর্জাতিক রাজনীতি, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সম্পর্কের মতো বিষয় নিয়ে এ ধরনের আলোচনা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জ্ঞানচর্চার পরিসর বিস্তৃত করতে সহায়ক। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ঘটনাপ্রবাহের পেছনে কাজ করা কৌশলগত স্বার্থ ও রাজনৈতিক বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের গুরুত্ব রয়েছে।

বিশ্বের ক্ষমতার ভারসাম্য, বড় শক্তিগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক, সার্বিয়ার পররাষ্ট্রনীতি এবং ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার মধ্য দিয়ে এনএসইউতে এ বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠিত হয়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স