বাংলাদেশ দলের জার্সিতে দুই দশকের বেশি সময় কাটানো মুশফিকুর রহিম এখন ক্যারিয়ারের এমন এক পর্যায়ে, যেখানে তাঁর প্রতিটি কথায় ফুটে ওঠে অভিজ্ঞতার গভীরতা। সিলেট টেস্টের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি কথা বললেন নিজের ক্রিকেটজীবন, টেস্ট ক্রিকেটের পরিবর্তন এবং সতীর্থদের অবদান নিয়ে।
অনেক দিন ধরেই খুব বেশি সংবাদ সম্মেলনে দেখা যায় না মুশফিককে। তাই তিনি কক্ষে ঢুকতেই আলাদা আগ্রহ তৈরি হয় সবার মধ্যে। ম্যাচের চেয়ে বেশি আলোচনা জমে ওঠে বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে। আর সেই আলোচনায় নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার আলোকে খোলামেলা মত দেন তিনি।
১০২তম টেস্ট খেলতে নামার আগে মুশফিক বলেন, পেশাদার ক্রিকেটে নিষ্ঠার বিকল্প নেই। তাঁর ভাষায়, ক্রিকেট শুধু আবেগ নয়, এটি দায়িত্বও। তাই ভালো লাগুক বা না লাগুক, প্রতিদিন একই প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করতে হয়।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের কঠিন সময়ও খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। এমন একটা সময় ছিল, যখন দল নিয়মিত হারত এবং টেস্টে প্রতিপক্ষকে অলআউট করার মতো বোলিং শক্তিও ছিল না। তবে সেই পরিস্থিতি বদলেছে বলেই মনে করেন মুশফিক। এখন বাংলাদেশ দল শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, ম্যাচ জিততেও শিখেছে।
সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্সকে তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ধারাবাহিক সময়গুলোর একটি বলে মনে করেন। তাঁর মতে, আগে ব্যক্তিগত পারফরমার থাকলেও এখন দল হিসেবে ধারাবাহিকতা অনেক বেশি দৃশ্যমান।
তবে উন্নতির জায়গাও দেখছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। দেশের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আরও বৈচিত্র্যময় উইকেট তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ভিন্ন কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা বাড়লে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দল আরও শক্তিশালী হবে।
কয়েক বছর আগে ওয়ানডে ও টি–টোয়েন্টি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর এখন শুধু টেস্ট ক্রিকেটেই মনোযোগ মুশফিকের। এতে পরিবারকে বেশি সময় দিতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে শুধু একটি সংস্করণ খেলার অপেক্ষা যে মানসিকভাবে কঠিন, সেটিও স্বীকার করেছেন।
এই প্রসঙ্গে তিনি বিশেষভাবে স্মরণ করেছেন মুমিনুল হক ও তাইজুল ইসলামকে। মুশফিক বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে শুধুমাত্র টেস্ট খেলেও তাঁরা কখনো অভিযোগ করেননি। এখন নিজে একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গিয়ে তাঁদের সংগ্রাম আরও ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পারছেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য নয়, বরং ক্রিকেট উপভোগ করাটাই এখন তাঁর মূল ভাবনা। কোথায় থামবেন, সেটি নিয়েও খুব বেশি ভাবেন না বলে জানিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
আগামী আগস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম সেখানে দ্বিপক্ষীয় টেস্ট সিরিজ খেলার সুযোগ পাচ্ছেন মুশফিক। নতুন এই চ্যালেঞ্জ নিয়ে তিনি রোমাঞ্চিতও। তাঁর বিশ্বাস, গত কয়েক বছরে পাওয়া সাফল্য কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারবে।