ঢাকা

রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত: তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। শুক্রবার বিকেলে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন।

কমিটির প্রধান করা হয়েছে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দীনকে। সদস্য হিসেবে রয়েছেন রামপাল সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) একজন পরিদর্শক। কমিটিকে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন জানান, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, কীভাবে এটি ঘটেছে এবং কারও অবহেলা ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে প্রশাসন, পুলিশ ও বিআরটিএর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে এই কমিটি করা হয়েছে। তদন্তে কারও দায় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। বর ও কনের দাফনের জন্য আলাদাভাবে ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিআরটিএর দুর্ঘটনা ক্ষতিপূরণ তহবিল থেকেও নিয়ম অনুযায়ী নিহত ও আহতদের পরিবার সহযোগিতা পাবে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১৪ জন মারা যান। নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসে ছিলেন। তারা খুলনার কয়রা উপজেলা থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে মোংলার উদ্দেশে ফিরছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আহাদুর রহমান ছাব্বিরের বিয়ে হয়। কনের বাড়িতে অনুষ্ঠান শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে নববধূকে নিয়ে বরযাত্রীরা মাইক্রোবাসে করে মোংলার উদ্দেশে রওনা দেন। পথে দুর্ঘটনায় তারা প্রাণ হারান।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর আহাদুর রহমান ছাব্বির, তাঁর বাবা আব্দুর রাজ্জাক সরদার, ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, ঐশীর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলমের স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাঁদের সন্তান আলিফ, আরফা ও ইরাম। এছাড়া কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তাঁর ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম, নানি আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাসচালক নাঈমও নিহত হন।

শুক্রবার বাগেরহাটের মোংলা ও রামপাল এবং খুলনার কয়রা উপজেলায় নিহত ১৪ জনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স