ঢাকা

জামায়াতের নারী আসনের মনোনয়নপ্রক্রিয়া অন্যদের চেয়ে ভিন্ন—হামিদুর রহমান আযাদ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়া অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর তুলনায় আলাদা ও সংগঠিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয় বলে জানিয়েছেন হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, দলীয় আবেদনভিত্তিক নয়, বরং সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মনোনয়ন দেওয়া হয়—যেখানে তৃণমূল ও মহিলা বিভাগের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ–এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সোমবার সন্ধ্যায় ১১টি রাজনৈতিক দলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

‘আবেদন নয়, দলীয় সিদ্ধান্তে মনোনয়ন’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জামায়াতে ইসলামীতে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য কেউ ব্যক্তিগতভাবে আবেদন করে মনোনয়ন চায় না। বরং দলীয় পর্যবেক্ষণ, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন এবং তৃণমূলের পরামর্শের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হয়।

তিনি জানান, এই প্রক্রিয়ায় বিশেষভাবে দলটির মহিলা বিভাগের মতামতও নেওয়া হয়, যাতে নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধিত্ব আরও কার্যকর ও বাস্তবসম্মত হয়।

‘জুলাই পরিবারের প্রতিনিধিত্ব’কে গুরুত্ব

সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নে একটি বিশেষ বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাঁদের আত্মত্যাগ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সেই “জুলাই পরিবারের” প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে।

তার ভাষায়, “শহীদ পরিবার ও আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মান রক্ষার অংশ হিসেবে একজন জুলাই পরিবারের সদস্যকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।”

রাজনৈতিক সমঝোতা ও প্রতিশ্রুতি রক্ষার দাবি

হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আগের রাজনৈতিক সমঝোতার সময় যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দেওয়া অনেক লিখিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি, যার ফলে আস্থা সংকট তৈরি হয়েছে। তবে ১১ দলীয় জোট সে ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অটল থাকবে।

যোগ্যতা ও নৈতিকতাকে অগ্রাধিকার

মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মানদণ্ড তুলে ধরে জামায়াত নেতা বলেন, প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সততা, যোগ্যতা ও নৈতিক মানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং নারী সমাজের প্রতিনিধিত্ব করার সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

১১ দলীয় অংশগ্রহণ

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)–এর মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস–এর প্রচার সম্পাদক হাসান জুনাইদসহ অন্যান্য নেতারা।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট

বিশ্লেষকদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। জামায়াতের দাবি অনুযায়ী ‘কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত কিন্তু পরামর্শভিত্তিক’ এই প্রক্রিয়া তাদের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ কাঠামোর প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন, সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণমূলক কাঠামো ভবিষ্যতে আরও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স