ঢাকা

এসএসসি পরীক্ষার সময় এগিয়ে আনার চিন্তা, ডিসেম্বরেই আয়োজনের ইঙ্গিত

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষা ডিসেম্বর মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে পরীক্ষা সূচির সামঞ্জস্য আনা যায়।

আজ শুরু হওয়া এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও স্পষ্ট করেন মন্ত্রী।

‘কোর্স শেষ করে পরীক্ষা’—নীতিগত অবস্থান

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জানুয়ারি মাসে শিক্ষাবর্ষ শুরু হয়ে ডিসেম্বরেই কোর্স শেষ হয়। তাই কোর্স সম্পন্ন হওয়ার পরপরই পরীক্ষা নেওয়াই যৌক্তিক। তাঁর ভাষায়, “জানুয়ারি কোর্স শুরু করে ডিসেম্বরে শেষ। তাহলে কোর্স শেষ করে পরীক্ষা নেব—এটা তো স্বাভাবিক।”

তিনি ইঙ্গিত দেন, বর্তমান ব্যবস্থায় কোর্স শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে পরীক্ষা দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে সময় নষ্ট হচ্ছে, যা কমিয়ে আনা প্রয়োজন।

৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা সম্পন্নের চিন্তা

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এসএসসি ও এইচএসসি—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক পরীক্ষা প্রতিবছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সময়সূচি পুনর্বিন্যাস, সিলেবাস ব্যবস্থাপনা এবং পরীক্ষা আয়োজন কাঠামোয় সংস্কার আনার বিষয়েও কাজ চলছে।

গত মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও প্রাথমিক–গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর–এর মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

বর্তমান বাস্তবতা ও পেছানোর প্রেক্ষাপট

দীর্ঘদিন ধরে দেশে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারির শুরুতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলের শুরুতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। তবে করোনা মহামারির পর সেই নিয়মিত সূচি আর বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। ফলে পরীক্ষার সময় ধাপে ধাপে পিছিয়ে যায়।

এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে ২১ এপ্রিল থেকে, আর এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে আগামী ২ জুলাই।

বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা জানতে চান, ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা কবে থেকে কার্যকর হতে পারে—আগামী বছর নাকি আরও পরে। জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ না করে বলেন, “প্রত্যেক পরীক্ষা যে সময়ে হয়, সেই সময়ে হবে।”

তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, সিলেবাস নির্ধারিত সময়ে শেষ করা গেলে ডিসেম্বরেই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

শিক্ষাব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষাবর্ষের সঙ্গে পরীক্ষা সময়সূচির সমন্বয় করা গেলে শিক্ষার্থীদের সময় অপচয় কমবে এবং উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের প্রক্রিয়াও দ্রুততর হবে। তবে এ ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়নে পাঠ্যক্রম, শিক্ষকসংকট, অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে দেশের পাবলিক পরীক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স