ঢাকা

সংসদ আলোচনায় তীব্র বক্তব্য, চাঁদাবাজি ইস্যুতে জুলাই বিপ্লব প্রসঙ্গ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় তীব্র রাজনৈতিক বক্তব্য, পাল্টা বক্তব্য ও নানা ইস্যুতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। সোমবারের এই বৈঠকে সরকার ও বিরোধী দলের একাধিক সংসদ সদস্য অংশ নেন, যেখানে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস, জুলাই আন্দোলন, উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান উঠে আসে।

ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিকেল তিনটায় অধিবেশন শুরু হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের অন্তত ২০ জন সংসদ সদস্য বক্তব্য দেন। পুরো অধিবেশনজুড়ে রাজনৈতিক বক্তব্যে ছিল তর্ক, পাল্টা তর্ক এবং ব্যক্তিগত মন্তব্যের প্রবণতা।

‘জুলাই বিপ্লব’ নিয়ে এমরান আহমেদ চৌধুরীর মন্তব্য

আলোচনায় অংশ নিয়ে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমেদ চৌধুরী বলেন, জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা তৈরি করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়। তিনি নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, কোনো ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ হাসিল নয়।

তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রণালয়ে গিয়ে চাঁদাবাজির জন্য জুলাই বিপ্লব নয়।”

এমরান আহমেদ চৌধুরী আরও মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা Tarique Rahman–কে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে বলেন, তাকে নিয়ে বিভিন্ন সময় অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনায় তারেক রহমানের ভূমিকা নিয়ে অতিরঞ্জিত মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সংসদ নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতার উভয়েরই সিলেটের সঙ্গে পারিবারিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক থাকায়, এবার ওই অঞ্চলের উন্নয়ন প্রত্যাশা আরও বেশি।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া

আলোচনায় অংশ নিয়ে নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী বলেন, রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে অতীতের কিছু ভুল স্বীকার করেছেন, যা ইতিবাচক। তিনি বলেন, অতীতের বিভেদ ভুলে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মতিউর রহমান রাষ্ট্রপতির ভূমিকাকে সমালোচনা করে বলেন, তিনি অতীতে ক্ষমতাসীন কাঠামোর অংশ হিসেবে কাজ করেছেন, যা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাই তাঁকে ধন্যবাদ জানানোর মতো অবস্থানে তিনি নেই বলে মন্তব্য করেন।

উন্নয়ন ও প্রশাসন নিয়ে অন্যান্য এমপিদের বক্তব্য

আলোচনায় অংশ নেওয়া অন্যান্য সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকার সমস্যা ও উন্নয়ন প্রসঙ্গ তুলে ধরেন।

গোপালগঞ্জ-২ আসনের কে এম বাবর, ফরিদপুর-৩ আসনের নায়াব ইউসুফ এবং দিনাজপুর-৩ আসনের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার অবকাঠামো ও সেবাখাতের উন্নয়ন ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রাম-৮ আসনের এরশাদ উল্লাহ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের এনামুল হক বন্দর ও শিল্পাঞ্চল উন্নয়ন নিয়ে বক্তব্য দেন।
রংপুর, নওগাঁ, ময়মনসিংহ, মৌলভীবাজারসহ বিভিন্ন জেলার সংসদ সদস্যরা বিদ্যুৎ, সড়ক, কৃষি ও প্রশাসনিক দুর্নীতির বিষয় তুলে ধরেন।

অনেক সদস্য অভিযোগ করেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও সমন্বয়হীনতার কারণে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।

রাজনৈতিক বক্তব্যে উত্তাপ

পুরো আলোচনায় রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধী দলের অবস্থান স্পষ্টভাবে বিভক্ত হয়ে পড়ে। কেউ ভাষণকে ‘বাস্তবসম্মত ও আত্মসমালোচনামূলক’ হিসেবে দেখলেও, অন্যরা এটিকে ‘আংশিক ও অসম্পূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেন।

বিশেষ করে ‘জুলাই বিপ্লব’ ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলন নিয়ে দেওয়া মন্তব্যগুলো সংসদে বাড়তি উত্তেজনা তৈরি করে। একাধিক সংসদ সদস্যের বক্তব্যে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ব্যাখ্যা উঠে আসে, যা অধিবেশনকে আরও বিতর্কিত করে তোলে।

সার্বিক চিত্র

সোমবারের সংসদ অধিবেশন ছিল মূলত রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনুষ্ঠানিক ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা, তবে বাস্তবে তা রূপ নেয় সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, আন্দোলন, প্রশাসনিক সমালোচনা ও উন্নয়ন প্রশ্নে বিস্তৃত বিতর্কে।

অধিবেশনে অংশ নেওয়া সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে একদিকে যেমন উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবি উঠে এসেছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক ইতিহাস ও নেতৃত্ব নিয়ে তীব্র মতপার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স