সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি তিলকপুর স্টেশন অতিক্রম করার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে এর পেছনের ৯টি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। দুর্ঘটনার তীব্রতায় রেললাইনের স্লিপার ও ফিশপ্লেট দুমড়েমুচড়ে গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা
বগি লাইনচ্যুত: ট্রেনের মোট ৯টি কোচ লাইনের বাইরে চলে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা জটিল হয়ে পড়েছে।
হতাহতের আশঙ্কা: দুর্ঘটনার সময় ট্রেনের ভেতরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বগিগুলো একে অপরের ওপর উঠে যাওয়ায় বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে প্রাণহানির সঠিক তথ্য এখনও নিশ্চিত করা হয়নি।
যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: এই দুর্ঘটনার ফলে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী এবং উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকামুখী সকল ট্রেনের সিডিউল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেনগুলো।
উদ্ধার অভিযান ও রেল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ
সান্তাহার ও ঈশ্বরদী রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়েছে।
রিলিফ ট্রেন: ঈশ্বরদী থেকে একটি শক্তিশালী উদ্ধারকারী (রিলিফ) ট্রেন ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। রেললাইন মেরামত ও বগিগুলো উদ্ধার করতে বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে।
তদন্ত কমিটি: রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রক্রিয়া চলছে। লাইন দুর্বল ছিল নাকি যান্ত্রিক ত্রুটি—তা খতিয়ে দেখা হবে।
যাত্রীদের ভোগান্তি
হঠাৎ রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে রমজান ও আসন্ন ঈদের কেনাকাটার এই সময়ে স্টেশনে আটকা পড়া যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা গেছে। বিকল্প পথে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য যাত্রীদের অনেকে সড়কপথের সাহায্য নিচ্ছেন।
সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশ ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করতে ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন। লাইন সচল হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসেনি।


