ঢাকা

আল–জাজিরার রিপোর্ট: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার ছায়ায় ইরান ও খারগ দ্বীপ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। আল–জাজিরা জানায়, তীব্র হামলা ও হুমকির মধ্যেও এখনো কোনো স্থায়ী যুদ্ধবিরতি দেখা যাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ খারগ দ্বীপ দখল বা ধ্বংসের পরিকল্পনা করছেন। খারগ দ্বীপ ইরানের উপকূলে অবস্থিত, ৫ বর্গমাইল আয়তনের এই দ্বীপ থেকে দেশটির মোট তেলের ৯০ শতাংশ রপ্তানি হয়। ট্রাম্পের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে দ্বীপ দখল বা নৌপথে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

একই সময়, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, “যুদ্ধ দ্রুত এগোচ্ছে এবং আকাশপথে সীমিতভাবে জিতলেও স্থলে উপস্থিতি অপরিহার্য।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খারগ দ্বীপ দখল করতে হলে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান প্রয়োজন; একক বিশেষ বাহিনী দিয়ে তা সম্ভব নয়। চ্যাথাম হাউসের বিশ্লেষক নিল কুইলিয়াম বলেন, “দ্বীপ দখল করলে ইরানের তেলশিল্প কার্যত বিচ্ছিন্ন হবে, যা জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করবে।”

ইরানও পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) তেহরান ও অন্যান্য শহরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সাম্প্রতিক হামলায় আইআরজিসির মুখপাত্র জেনারেল আলী মোহাম্মদ নায়িনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইরানের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এবং আধা সামরিক বাহিনী বাসিজের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ওপর হামলার দাবি করেছে ইসরায়েল। নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

যুদ্ধ জোরদারের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা ও যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে। রয়টার্স ও নিউজম্যাক্স জানায়, চার হাজার মার্কিন মেরিন সেনা, বিশেষ যুদ্ধজাহাজ, উভচর যুদ্ধযান এবং এফ-৩৫ বিমান মোতায়েন করা হবে। সেনাদের মধ্যে ২,৫০০ জন মেরিন থাকবে। তবে তাদের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এখনও জানা যায়নি।

ইরান ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারকে যুদ্ধের অংশ হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করেছে। একই সময়ে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধ নিয়ে বিভ্রান্তি ও অস্পষ্টতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ওয়াশিংটনের কুইনসি ইনস্টিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্র্যাফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসি মনে করেন, ট্রাম্প বুঝতে পারছেন, যুদ্ধ বিশেষভাবে ভালো যাচ্ছে না, এবং উত্তেজনা বাড়ানোর বিকল্পও ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা খুবই সংকটাপন্ন। খারগ দ্বীপ দখল, স্থলসেনা মোতায়েন এবং পাল্টা ইরানি হামলার কারণে যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রভাব কেবল ইরান নয়, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স