ঢাকা

‘নিপীড়নের লাইসেন্স’—ইসরায়েল প্রসঙ্গে আলবানিজের বক্তব্যে নতুন বিতর্ক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং

ইসরায়েলকে ‘কার্যত ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন চালানোর লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে’ বলে অভিযোগ করেছেন দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে নিয়োজিত জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রানচেসকা আলবানিজ। সোমবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ–এর অধিবেশনে একটি নতুন প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিবেদনে ‘চলমান জাতিগত নিধন’-এর অভিযোগ

আলবানিজ বলেন, তার দাখিল করা প্রতিবেদনে ‘ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে চলমান জাতিগত নিধন’–এর প্রমাণ ও নথিপত্র তুলে ধরা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ব্যাপক ও পরিকল্পিতভাবে নিপীড়ন চালাচ্ছে এবং এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে, যা ফিলিস্তিনিদের জন্য চরমভাবে যন্ত্রণাদায়ক ও অসহনীয়।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই নিপীড়ন কেবল বিচ্ছিন্ন বা তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ নয়; বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত নীতি, যার লক্ষ্য ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীকে দমন ও দুর্বল করে রাখা।

‘আন্তর্জাতিক মদদে নিপীড়ন’

প্রতিবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বিভিন্ন দেশের সরকার ও নীতিনির্ধারকরা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইসরায়েলকে সহায়তা করছে। আলবানিজ বলেন, “ইসরায়েলকে কার্যত ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়ন চালানোর লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। কারণ অধিকাংশ দেশের সরকার ও তাদের মন্ত্রীরা এ অবস্থার বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, বরং নীরব সমর্থন বা সহযোগিতা দিয়েছে।”

তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান, যাতে দখলকৃত অঞ্চলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয় এবং আন্তর্জাতিক আইন বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার, হেফাজতে মৃত্যু ও গুমের অভিযোগ

আলবানিজের নতুন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী শিশুসহ সাড়ে ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে। একই সময়ে অন্তত ১০০ জন ইসরায়েলের হেফাজতে মারা গেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রায় ৪ হাজার ফিলিস্তিনি ‘গুম’ হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হাজার হাজার মানুষকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই প্রশাসনিক আদেশে আটক রেখে ইসরায়েলি কারাগারে অমানবিক পরিবেশে রাখা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ–এ উপস্থাপিত এই প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। বিশেষ করে ‘জাতিগত নিধন’–এর মতো গুরুতর অভিযোগ কূটনৈতিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং যুদ্ধাপরাধ তদন্তের প্রশ্নে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।

তবে ইসরায়েল বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে এবং নিজেদের সামরিক পদক্ষেপকে ‘নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিকার’ হিসেবে বর্ণনা করে থাকে।

সব মিলিয়ে, আলবানিজের প্রতিবেদন দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কতটা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স