ঢাকা

দিল্লিতে হোটেল ট্র্যাজেডি, আগুনে প্রাণ হারাল একই পরিবারের ৮ জন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ভারতের রাজধানী দিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের আট সদস্যসহ অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার সকালে ‘ফ্লোরিশ স্টে বি’ নামের পাঁচতলা আবাসিক হোটেলে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ায় ভেতরে অবস্থানরত অনেক অতিথি বের হওয়ার সুযোগ পাননি। ঘটনার পর রাজধানীজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং হোটেলটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে এসে প্রাণ হারাল পুরো পরিবার

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বিবেক আগরওয়াল, তাঁর স্ত্রী তর্জনী আগরওয়াল, দুই কন্যা জিভিশা ও ভার্যা এবং পরিবারের আরও চারজন সদস্য।

পরিবারটির বাড়ি দিল্লির উপকণ্ঠের গুরুগ্রাম সেক্টর ৪৬ এলাকায়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিবেক আগরওয়াল তাঁর অসুস্থ বাবাকে দেখতে দিল্লিতে এসেছিলেন। তাঁর বাবা রাধে শ্যাম আগরওয়াল বর্তমানে Max Hospital-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হোটেলটিতে অবস্থানের জন্য বিবেক দুটি কক্ষ ভাড়া নিয়েছিলেন। ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যরা হোটেলের রেস্তোরাঁয় সকালের নাশতা করছিলেন। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কেউই প্রাণ নিয়ে বের হতে পারেননি। এতে একই পরিবারের আট সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।

এই দুর্ঘটনার পর পরিবারটির একমাত্র জীবিত নিকটাত্মীয় হিসেবে রয়েছেন ৮০ বছর বয়সী রাধে শ্যাম আগরওয়াল, যিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

ডিএনএ পরীক্ষার পর হস্তান্তর হবে মরদেহ

অগ্নিকাণ্ডের পর নিহতদের স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ গ্রহণের চেষ্টা করেন। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহগুলোর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরীক্ষার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই স্বজনদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে গুরুগ্রামের সেক্টর ৪৬ এলাকায় অবস্থিত আগরওয়াল পরিবারের বাড়িটি এখন সম্পূর্ণ খালি। পরিবারের প্রায় সবাই একসঙ্গে মারা যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও হতবাক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

আগুন লাগার পর আটকা পড়েন অতিথিরা

পুলিশ ও দমকল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে হোটেলটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পাঁচতলা ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় ভবনটিতে প্রায় ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন, যাঁদের অধিকাংশই ঘুমিয়ে ছিলেন।

আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর আতঙ্কিত অতিথিরা বের হওয়ার চেষ্টা করলেও ভবনের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকেই আটকা পড়ে যান। এতে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর ত্রুটির অভিযোগ

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ভবনটিতে যাতায়াতের জন্য কার্যত একটি প্রধান পথই ছিল। এছাড়া ভবনের জানালাগুলো স্থায়ীভাবে সিল করা ছিল এবং মূল প্রবেশদ্বারটি ছিল সেন্সরনির্ভর। আগুন লাগার পর এসব কারণে অতিথিদের দ্রুত বের হওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি এবং জরুরি নির্গমনপথের অভাব হতাহতের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে।

লাইসেন্সের চেয়ে বেশি কক্ষ পরিচালনার অভিযোগ

ঘটনার পর হোটেলটির পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, দিল্লি সরকারের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ প্রকল্পের আওতায় হোটেলটিকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল। ওই লাইসেন্স অনুযায়ী একটি ভবনে সর্বোচ্চ ছয়টি কক্ষ পরিচালনার অনুমতি রয়েছে।

তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের সময় ‘ফ্লোরিশ স্টে বি’ হোটেলটি বেজমেন্টসহ মোট ২৫টি কক্ষ পরিচালনা করছিল। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

তদন্ত শুরু

দুর্ঘটনার পর পুলিশ, দমকল বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে। আগুনের উৎস, ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং লাইসেন্সসংক্রান্ত অনিয়ম খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিল্লির সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে এক পরিবারের আট সদস্যের মৃত্যু দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে নগরীর আবাসিক হোটেলগুলোর নিরাপত্তা মান এবং সরকারি তদারকি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স