ঢাকা

হাদি হত্যা মামলার দ্রুত বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের নতুন ঘোষণা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনের সামনে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার, অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা এবং ঘটনার নেপথ্যের দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্টতা উদ্‌ঘাটনের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ইনকিলাব মঞ্চ।

বুধবার (৪ জুন) অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের কর্মসূচির ঘোষণা দেন। ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে মশালমিছিল এবং শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিল। একই দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানেও কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ আল জাবের অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের তদন্ত কার্যক্রমে বারবার বিলম্ব করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রতিবেদন একাধিকবার পেছানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনতে দৃশ্যমান ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ এখনো দেখা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় আড়াল করার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের পরিচয় বা ‘ট্যাগ’ ব্যবহার করা হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। কেবল রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে, তা যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও বিস্তৃত দেশি ও আন্তর্জাতিক সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে, যা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উন্মোচন করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে বিদেশি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়। এ প্রসঙ্গে ভারতের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার দাবি তুলে সদস্যসচিব বলেন, সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক বক্তব্য এবং ঘটনাপ্রবাহের ভিত্তিতে তাঁদের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্‌ঘাটনের দাবি জানান তিনি।

আবদুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সময়কাল, ঘটনার ধরন এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের এখনো সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। তিনি জানতে চান, ঘটনার সঙ্গে কোনো দেশি বা বিদেশি শক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল কি না এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী ধরনের অনুসন্ধান চালিয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের পরপরই সীমান্তে কঠোর নজরদারি বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ কমে আসত। কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে বিলম্ব হওয়ায় অভিযুক্তরা দেশত্যাগের সুযোগ পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একটি বেসরকারি অনুসন্ধানী সংস্থা অল্প সময়ের মধ্যে সম্ভাব্য অভিযুক্তদের পরিচয় প্রকাশ করতে সক্ষম হলেও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো এখনো সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।

আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, রাজধানীর মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একজন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে, অথচ অভিযুক্তরা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশ ত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছে। এ ঘটনায় গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিও পুনর্ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে ইনকিলাব মঞ্চের প্রকাশনা সম্পাদক ফাহিম মীর, সদস্য হাবিবুল্লাহ মিসবাহ এবং সংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগ ও দাবিগুলো মূলত সংগঠনটির নিজস্ব বক্তব্য। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা অভিযুক্ত পক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স