ঢাকা

বরগুনার ডাকবাংলো থেকে নারী ও দুই কন্যার মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং


বরগুনা শহরের একটি সরকারি ডাকবাংলো থেকে এক নারী ও তাঁর দুই শিশুকন্যার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেলে শহরের থানাপাড়া এলাকায় অবস্থিত জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার দুটি পৃথক কক্ষ থেকে মরদেহগুলো পাওয়া যায়।

নিহত নারী ইতি রানী (৩৪) ডাকবাংলোটিতে অস্থায়ী পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর সঙ্গে থাকা দুই মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাস (৩) ও আরাধ্য বিশ্বাস (১১) ঘটনাস্থলেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

ডাকবাংলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকালে কাজে যোগ দিতে দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে আসেন ইতি রানী। পরে নির্দিষ্ট সময়ে তাঁকে খুঁজে না পেয়ে কর্মচারীরা তৃতীয় তলার কয়েকটি কক্ষে খোঁজ নেন। তখন দুটি কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়। একাধিকবার ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না মেলায় বিষয়টি কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। একটি কক্ষে নারী ও তাঁর ছোট মেয়েকে আলাদা দুটি খাটে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। অপর কক্ষে বড় মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে কিছু ঘুমের ওষুধ এবং একটি পানির বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। এসব আলামত পরীক্ষা করে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে। প্রাথমিকভাবে এটি পরিকল্পিত কোনো ঘটনা হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে রাজি নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, কক্ষ দুটির দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী সন্তানদের নিয়ে বাইরে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। ফলে ঘটনার পেছনের কারণ অনুসন্ধানে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ঘটনাস্থলে এসে স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃত্যুসংবাদে ভেঙে পড়েন ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি জানান, সকালে ব্যবসার কাজে বাইরে যাওয়ার আগে পরিবারের প্রয়োজনীয় খরচের টাকা দিয়ে গিয়েছিলেন। পরে বাড়ি ফিরে স্ত্রী ও সন্তানদের না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিছু সময় পর তাঁদের মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। বর্তমানে ঘটনাটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।


নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স