ঢাকা

দীপু মনির এক মামলায় জামিন নিশ্চিত, অন্য ছয় মামলায় শুনানি নির্দেশ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
প্রায় দুই বছর ধরে কারাবন্দি সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি একটি হত্যা মামলায় জামিন পেয়েছেন। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আরও ছয়টি পৃথক হত্যা মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (৪ জুন) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগ বেঞ্চ পৃথক সাতটি জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, একটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করার পাশাপাশি বাকি ছয়টি মামলায় কেন জামিন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। এসব মামলায় পরবর্তী শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষকে জবাব দিতে হবে।

জামিন পাওয়া মামলাটি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলা, যেখানে জুলাই আন্দোলনের সময় মুদিদোকানি আবু সায়েদ হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। এ মামলায় আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী রমজান আলী শিকদার এবং সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী গাজী ফয়সাল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. হেমায়েত উল্লাহ।

আইনজীবী রমজান আলী শিকদার গণমাধ্যমকে জানান, ওই মামলার এজাহারে দীপু মনির নাম সরাসরি উল্লেখ নেই এবং তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই। এ কারণেই আদালত তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একই ব্যক্তি একাধিক মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে হাইকোর্টে পৃথক সাতটি আবেদন করেন। এর মধ্যে একটি মামলায় জামিন এবং বাকি ছয়টি মামলায় রুল জারি করা হয়েছে।

অন্য ছয়টি মামলা রাজধানীর বাড্ডা ও যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জানা গেছে। এসব মামলায় কেন জামিন দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষকে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সহিংসতা, হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে দীপু মনির বিরুদ্ধে মোট প্রায় ৭০টি মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের অধিকাংশই তদন্তাধীন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

রমজান আলী শিকদার ও গাজী ফয়সাল ইসলাম আদালতে তাঁর পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. হেমায়েত উল্লাহ।

দীপু মনি ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট রাজধানীর বারিধারা থেকে গ্রেপ্তার হন। পরদিন তাঁকে মোহাম্মদপুর থানার আবু সায়েদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

চিকিৎসা ও আইন বিষয়ে শিক্ষিত দীপু মনি আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও ছিলেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালে তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর মন্ত্রিত্বের অবসান ঘটে। এরপর বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে অবস্থান করছেন।

আদালতের এই আদেশে তাঁর আইনগত প্রক্রিয়ায় নতুন অগ্রগতি হলেও বাকি মামলাগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মুক্তি অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স