প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক অনিবার্য ও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। অতীতে তাঁর অবদানকে খাটো করার নানা চেষ্টা হলেও, সেগুলোই প্রমাণ করে যে মুক্তিযুদ্ধে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান শুরুতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব না হয়ে একজন সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন, তবে তিনি স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন লালন করতেন। তাঁর মতে, স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল না আকস্মিক, বরং দীর্ঘ প্রস্তুতির ফল।
রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের লেখা “একটি জাতির জন্ম” শীর্ষক নিবন্ধের উল্লেখ করে বলেন, এটি মুক্তিযুদ্ধের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। নিবন্ধটিতে স্বাধীনতার পটভূমি ও প্রস্তুতির বিস্তারিত বর্ণনা রয়েছে, যা ইতিহাস গবেষণায় সহায়ক হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, নিবন্ধটি প্রথম প্রকাশের পর কিংবা পরে পুনঃপ্রকাশের সময় কোনো পক্ষ থেকে আপত্তি তোলা হয়নি, যা এর গ্রহণযোগ্যতাকে আরও জোরালো করে।
অতীতের গুরুত্ব তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, অতীতকে পুরোপুরি ভুলে গেলে যেমন ক্ষতি, তেমনি অতীত নিয়েই পড়ে থাকলেও ভবিষ্যতের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়। তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং স্বাধীনতার ঘোষকসহ সকল জাতীয় নেতার অবদান স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় অধ্যায় এবং এটি কোনো একটি দলের নয়, বরং পুরো জাতির সংগ্রাম।
স্বাধীনতার মূল্য বোঝাতে গিয়ে তিনি ফিলিস্তিনের উদাহরণ টেনে বলেন, যারা এখনো স্বাধীনতার জন্য লড়ছে, তারাই এর প্রকৃত গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বহু ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা ও উন্নয়নের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। বর্তমান সরকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এবং ভবিষ্যতে একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে।
সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব।
আলোচনা সভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।