ঢাকা

বিএনপি–জামায়াত সম্পর্ক নিয়ে সতর্কবার্তা, আওয়ামী লীগের সুবিধার ইঙ্গিত: মঞ্জু

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
রাজনৈতিক অঙ্গনে Mujibur Rahman Monju মন্তব্য করেছেন, Bangladesh Nationalist Party ও Bangladesh Jamaat-e-Islami–এর মধ্যে দূরত্ব যদি সংঘাতে রূপ নেয়, তাহলে তার রাজনৈতিক সুবিধা আবারও পেতে পারে Awami League।

শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এবি পার্টির সংগঠক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির আহ্বায়ক গোলাম ফারুক। সঞ্চালনায় ছিলেন মহানগর সদস্যসচিব সৈয়দ আবুল কাশেম।

‘১৯৯১ থেকে ২০০১—রাজনৈতিক সম্পর্কের ওঠানামা’

মুজিবুর রহমান মঞ্জু তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন পর্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছিল। পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতি ও প্রভাব বিস্তারের ইস্যুতে দুই দলের মধ্যে বৈরিতা তৈরি হয়, যা একাধিক সহিংস সংঘর্ষে রূপ নেয়।

তিনি আরও বলেন, সেই রাজনৈতিক বাস্তবতার ধারাবাহিকতায় ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। পরবর্তী সময়ে আত্মপর্যালোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে ২০০১ সালে বিএনপি ও জামায়াত আবারও জোট গঠন করে দীর্ঘ সময় একসঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা

মঞ্জু বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি ও জামায়াত আবারও মুখোমুখি অবস্থানে চলে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে সংঘাতের দিকে গড়াতে পারে।

তার মতে, “এই দূরত্ব যদি সংঘাতে রূপ নেয়, তবে তা রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করবে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অস্থিরতা বাড়ছে, যা রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রতিফলন হতে পারে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ

তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল বৃদ্ধি পেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

তার ভাষায়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং বিএনপি–জামায়াত সম্পর্কের উত্তেজনা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে না আনলে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়বে।

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে মন্তব্য

মঞ্জু আরও বলেন, অতীতে পুলিশকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহারের যে অভিযোগ ছিল, তা আবার ফিরে আসার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, পুলিশ সংস্কার কমিশন, স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সরকারের ধীরগতি ভবিষ্যতে আরও সংকট তৈরি করতে পারে।

সংগঠন বিস্তারে নির্দেশনা

সমাবেশে তিনি এবি পার্টির নেতাকর্মীদের থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠন আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী করার নির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরের যুগ্ম সদস্যসচিব শহিদুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক যায়েদ হাসান চৌধুরী, এবি যুব পার্টির আহ্বায়ক আব্দুর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা আতাউর রহমান নূর, তৌহিদ হোসেন, যুব পার্টির সদস্যসচিব মুহাম্মদ জাবেদ, শ্রমিকনেতা মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স