ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সন্দেহ অব্যাহত, আলোচনার দরজা খোলা রাখল তেহরান: আরাগচি

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনায় আস্থার সংকটই প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন যদি চুক্তির বিষয়ে “আন্তরিক ও বাস্তবসম্মত অবস্থান” নেয়, তবেই তেহরান আলোচনায় ফিরতে আগ্রহী হবে।

শুক্রবার নয়াদিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পরমাণু আলোচনা কার্যত স্থগিত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থাহীনতা ও আলোচনার শর্ত

আরাগচি বলেন, তেহরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে “গভীর সন্দেহ” রয়েছে। তাঁর ভাষায়, ওয়াশিংটনের নীতিতে ধারাবাহিকতা নেই এবং পরস্পরবিরোধী বার্তা কূটনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিকার অর্থে চুক্তির বিষয়ে আন্তরিক হয়, তবেই আমরা আলোচনায় বসার বিষয়টি বিবেচনা করব।”

বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলমান অচলাবস্থাকে আরও স্পষ্ট করেছে, যেখানে আস্থা পুনর্গঠনই এখন মূল চ্যালেঞ্জ।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে কঠোর বার্তা

সংবেদনশীল সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কঠোর অবস্থান জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে “যুদ্ধে নেই”, তারা এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে, তবে ইরানি নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালির পরিস্থিতি বর্তমানে “খুবই জটিল”।

এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া বার্তায় আরাগচি জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর–কে তিনি বলেছেন, ইরান ঐতিহাসিকভাবে এই সমুদ্রপথের নিরাপত্তা রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

যুদ্ধবিরতি ও স্থগিত আলোচনা

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও স্থায়ী সমঝোতার বিষয়ে অগ্রগতি হয়নি। উভয় পক্ষই একে অপরের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানা গেছে।

আরাগচি দাবি করেন, আলোচনায় অচলাবস্থার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের “পরস্পরবিরোধী অবস্থান” বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে তিনি বলেন, মধ্যস্থতাকারী দেশের উদ্যোগ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়নি, বরং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এখন স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

গত কয়েক মাসে আলোচনা কয়েক দফা শুরু হলেও বারবার তা ভেস্তে গেছে। অভিযোগ রয়েছে, আলোচনার সময়ই সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করে পরিস্থিতি জটিল করা হয়েছে।

পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক উত্তেজনা

দুই দেশের মধ্যে প্রধান বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ইরান ইস্যুতে তাঁর ধৈর্য “শেষ পর্যায়ে” পৌঁছেছে এবং দ্রুত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

এর জবাবে আরাগচি বলেন, ইরান প্রয়োজনে আবারও কঠোর অবস্থানে যেতে প্রস্তুত, যদিও কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনো খোলা রয়েছে।

চীন ও ভারতের ভূমিকা

মধ্যস্থতার সম্ভাবনায় তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন আরাগচি। তিনি বলেন, চীনের মতো দেশ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিলে ইরান তা স্বাগত জানাবে।

চীন–এর সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক “কৌশলগত ও অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ”, এবং বেইজিংয়ের যেকোনো শান্তি উদ্যোগ ইতিবাচক হিসেবে দেখা হবে।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক জ্বালানি ও বাণিজ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষণ: কূটনীতিতে অনিশ্চয়তার নতুন অধ্যায়

বিশ্লেষকদের মতে, আরাগচির এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ওয়াশিংটন–তেহরান সম্পর্ক এখন আস্থার গভীর সংকটে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর অবস্থান বজায় রাখছে, অন্যদিকে ইরান আলোচনা শুরুর আগে রাজনৈতিক নিশ্চয়তা চাইছে।

ফলে হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা—এই তিন ইস্যুই আপাতত দুই দেশের কূটনৈতিক অচলাবস্থাকে দীর্ঘায়িত করছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স