ঢাকা

স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে অংশগ্রহণের চিন্তা National Citizen Party-এ, ভিত্তি কী

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। National Citizens Party (NCP)–এর মধ্যে এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি এবং সম্ভাব্য জোট রাজনীতি—দুই ধারার চিন্তা একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে দলটি। অন্যদিকে Bangladesh Jamaat-e-Islami–ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

নতুন এই রাজনৈতিক অবস্থানকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন উঠেছে—এনসিপি কি জোট রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, নাকি এটি কৌশলগত প্রস্তুতির অংশমাত্র?

আগেভাগেই প্রার্থী ঘোষণা করে চমক এনসিপির

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল এখনো ঘোষণা না হলেও এনসিপি আগেভাগেই বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দলটির নেতারা বলছেন, এটি তাদের সাংগঠনিক প্রস্তুতির অংশ।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী—

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন–এ মেয়র প্রার্থী আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন–এ আরিফুল ইসলাম আদীব
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন–এ তারিকুল ইসলাম
রাজশাহী সিটি করপোরেশন–এ মো. মোবাশ্বের আলী
সিলেট সিটি করপোরেশন–এ আবদুর রহমান আফজাল

দলটি ইতোমধ্যে উপজেলা ও পৌরসভা পর্যায়েও শতাধিক প্রার্থী ঘোষণা করেছে এবং আরও প্রার্থী তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

‘একক প্রস্তুতি, জোট সিদ্ধান্ত পরে’

এনসিপির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, দলটি এখনই এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি গুছিয়ে রাখছে। তবে চূড়ান্তভাবে জোট হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর।

দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক Ariful Islam Adib বলেন,
“জোট হবে কি না—সেটা নির্বাচনের আগে সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু আমরা কোনো দ্বিধায় না থেকে এককভাবেই প্রস্তুতি এগিয়ে রাখছি।”

দলীয় সূত্র বলছে, দুই ধরনের প্রস্তুতি রাখার কৌশল নিয়েছে এনসিপি—একদিকে এককভাবে নির্বাচন করার সক্ষমতা তৈরি, অন্যদিকে জোটের সুযোগ এলে তা গ্রহণের নমনীয়তা।

সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে ভেতরে দ্বিমত

এনসিপির ভেতরে এই কৌশল নিয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে। একটি অংশ মনে করছে, দলটি এখনো এককভাবে নির্বাচনের মতো শক্তিশালী নয়। অন্য অংশের মতে, এককভাবে অংশ নিলে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও শক্তি—দুইটিই স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি “টেস্টিং গ্রাউন্ড” কৌশল, যেখানে এনসিপি নিজেদের বাস্তব ভোট–সমর্থন যাচাই করতে চায়।

জামায়াতের একক নির্বাচনী প্রস্তুতি ও সম্ভাব্য প্রতিযোগিতা

অন্যদিকে জামায়াতও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে সিটি করপোরেশন পর্যায়ে প্রার্থী ঘোষণার ক্ষেত্রে এনসিপির সঙ্গে তাদের কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি প্রতিযোগিতার আভাস দেখা যাচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণার পর জামায়াত সেখানে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদিককে বিবেচনায় রেখেছে বলে জানা গেছে।

জোট রাজনীতিতে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রার্থিতা ঘিরে এনসিপি ও জামায়াতের মধ্যে সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে। এর ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দুই দলের জোটবদ্ধভাবে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

একজন এনসিপি শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, এই টানাপোড়েন জোট রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

ভোট কৌশলের কেন্দ্রে ‘আগাম প্রার্থী ঘোষণা’

দলীয় নেতারা বলছেন, আগাম প্রার্থী ঘোষণা করার পেছনে তিনটি কৌশল রয়েছে—

প্রথমত, প্রার্থীদের আগেভাগে মাঠে পরিচিত করা
দ্বিতীয়ত, এলাকায় সংগঠন শক্তিশালী করা
তৃতীয়ত, ভোটের আগে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো

তাদের মতে, জাতীয় নির্বাচনে অন্যান্য দল যেভাবে আগাম প্রার্থী ঘোষণা করে সুবিধা পেয়েছে, এনসিপিও সেই কৌশল অনুসরণ করছে।

দল সম্প্রসারণে জোর এনসিপির

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি এনসিপি দল সম্প্রসারণেও জোর দিয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠন থেকে নেতাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

দলটির মতে, এতে তৃণমূলে সাংগঠনিক ভিত্তি শক্ত হচ্ছে এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রার্থী নির্বাচনে সুবিধা পাওয়া যাবে।

‘সুবিধাজনক অবস্থান তৈরির চেষ্টা’

এনসিপির নেতারা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই সাংগঠনিক বিস্তার ও প্রার্থী ঘোষণা তাদের রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্ত করবে।

একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, দল ইতোমধ্যে সংসদীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে এসেছে এবং স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে তারা সেই অবস্থান আরও সুসংহত করতে চায়।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন হিসাব

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির একক নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং জামায়াতের সমান্তরাল কৌশল স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও বহুমুখী করে তুলবে।

একই সঙ্গে জোট রাজনীতির ভবিষ্যৎ কাঠামো কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে এই স্থানীয় নির্বাচনের সমীকরণের ওপর।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স