ঢাকা

চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহকে ঘিরে ১৮ এপ্রিল জাতীয় দিবস করার দাবি জোরালো

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
১৯৩০ সালের ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের দিন ১৮ এপ্রিলকে ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ যুব ফ্রন্ট। বিদ্রোহের ৯৬তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা থেকে এই দাবি উত্থাপন করা হয়।

শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র–শিক্ষক কেন্দ্র–এ (টিএসসি) যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

শ্রদ্ধা নিবেদন ও সূচনা

আলোচনা সভার শুরুতে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং শহীদদের উদ্দেশে সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

আলোচনায় ইতিহাস ও প্রেক্ষাপট

সভায় বক্তারা ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল সূর্য সেন–এর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে সংঘটিত ব্রিটিশবিরোধী সশস্ত্র বিদ্রোহের তাৎপর্য ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, এই বিদ্রোহ উপমহাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা তরুণদের সাহস, আত্মত্যাগ ও সংগঠনের শক্তির প্রতীক।

বক্তাদের বক্তব্য

সভায় সভাপতিত্ব করেন যুব ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক রাশেদ শাহরিয়ার এবং সঞ্চালনা করেন ছাত্র ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রগতি বর্মণ।

বক্তব্য দেন বাসদ (মার্ক্সবাদী) কেন্দ্রীয় নির্বাহী ফোরামের সদস্য জয়দীপ ভট্টাচার্য, যুব ফ্রন্টের ঢাকা মহানগরের আহ্বায়ক রবিউল করিম নান্টু এবং ছাত্র ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ।

জয়দীপ ভট্টাচার্য বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সশস্ত্র ও অহিংস—দুটি ধারা থাকলেও ইতিহাসে অনেক সময় সশস্ত্র বিপ্লবী ধারাকে ‘সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা একপাক্ষিক উপস্থাপন। তাঁর মতে, ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রাম স্বাধীনতা অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছিল।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংঘাত কখনো কখনো অনিবার্য হয়ে ওঠে এবং সেটিকে সবসময় নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

জাতীয় যুব দিবস ঘোষণার দাবি

রবিউল করিম নান্টু বলেন, দেশের যুবসমাজকে মর্যাদার সঙ্গে এগিয়ে নিতে এবং বৈশ্বিক অপশাসন ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হলে সূর্য সেনের আদর্শকে ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি ১৮ এপ্রিলকে ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

রাফিকুজ্জামান ফরিদ বলেন, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ তরুণদের সাহসিকতা ও সংগঠিত প্রতিরোধের এক অনন্য উদাহরণ। সূর্য সেনের নেতৃত্বে গঠিত ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি এবং কিশোরদের অংশগ্রহণ এই আন্দোলনকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে।

ধারাবাহিক সংগ্রামের অংশ

সভাপতির বক্তব্যে রাশেদ শাহরিয়ার বলেন, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; এটি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির সংগ্রামের ধারাবাহিকতার অংশ। তিনি বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণআন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণ–অভ্যুত্থান—সবই একই ধারার প্রতিফলন।

তাৎপর্য

আয়োজকদের মতে, ১৮ এপ্রিলকে ‘জাতীয় যুব দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হলে দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাসচেতনা, দেশপ্রেম ও সংগ্রামী মানসিকতা আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে এটি স্বাধীনতাসংগ্রামের ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স