ঢাকা

ত্যাগীদের মূল্যায়নের দাবি মনোনয়নপ্রত্যাশী নারীদের, আশাবাদ বিএনপি নিয়ে

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দ্বিতীয় দিনের মতো সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শনিবার (তারিখ উল্লেখিত নয়) বিকেল পৌনে চারটার দিকে রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই কার্যক্রম শুরু হয়।

দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন।

দ্বিতীয় দিনের সাক্ষাৎকার কার্যক্রম

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্বিতীয় দিনে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ বিভাগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ডাকা হয়। এর আগে প্রথম দিনে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর ও ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি বিভাগের প্রার্থীদের একসঙ্গে ডেকে সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে। টাঙ্গাইল বিভাগ দিয়ে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়, পরে পর্যায়ক্রমে ঢাকা বিভাগের প্রার্থীরাও সাক্ষাৎকারে অংশ নেন।

আন্দোলন ও ত্যাগকে গুরুত্ব

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, মনোনয়ন নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাংগঠনিক অবদান, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয়তা এবং ত্যাগ স্বীকারকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ সংসদীয় দায়িত্ব পালনের সক্ষমতাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

সূত্রগুলোর মতে, শুধু পদধারী নেত্রী নয়, মাঠ পর্যায়ের আন্দোলনে সক্রিয় এবং প্রতিকূল সময়ে দলকে সমর্থন দিয়েছেন—এমন নারীদেরও মনোনয়নে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে।

প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া

সাক্ষাৎকার শেষে বেরিয়ে টাঙ্গাইল জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সুলতানা বিলকিস বলেন, দল যেন যোগ্যতা, দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং সাংগঠনিক অবদান বিবেচনায় নিয়ে মনোনয়ন দেয়—এটাই তাদের প্রত্যাশা।

অন্য এক মনোনয়নপ্রত্যাশী লাবনী সিদ্দিকী বলেন, রাজপথে সক্রিয়তার পাশাপাশি সংসদে যুক্তিতর্কে অংশগ্রহণের সক্ষমতাও বিবেচনায় রাখা উচিত।

রাজনৈতিক ভারসাম্যের চেষ্টা

দলীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় বিএনপি অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। শুধু সাংগঠনিক নেতৃত্ব নয়, আন্দোলনভিত্তিক অবদান এবং মাঠপর্যায়ের ত্যাগকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সমন্বিত তালিকা তৈরির চেষ্টা চলছে।

নির্বাচনী প্রেক্ষাপট

ইতিমধ্যে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। তফসিল অনুযায়ী, ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল। যাচাই-বাছাই ২২ ও ২৩ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৬ থেকে ২৮ এপ্রিল এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট পাবে ৩৬টি আসন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি আসন পাবেন।

গুলশান কার্যালয়ে ভিড় ও আলোচনা

গুলশান কার্যালয়ের সামনে সরেজমিনে দেখা গেছে, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে তাঁদের সমর্থকদের ভিড় রয়েছে। দিনব্যাপী সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে কে মনোনয়ন পাচ্ছেন তা নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা চলতে থাকে।

দলীয় নেতাদের মতে, চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণার আগে সাক্ষাৎকার পর্বই প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের প্রধান ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স