ঢাকা

অ্যাপল নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়: টিম কুকের পর জন টারনাস

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপল তার নেতৃত্ব কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। আইফোন নির্মাতা এই প্রতিষ্ঠানটির পরবর্তী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট জন টারনাস। দীর্ঘদিনের সিইও টিম কুকের উত্তরসূরি হিসেবে তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে, এমন এক সময় যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দৌড়ে অ্যাপল প্রতিযোগিতার চাপের মুখে রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে অ্যাপল জানায়, আগামী ১ সেপ্টেম্বর জন টারনাস নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তবে টিম কুক প্রতিষ্ঠান ছাড়ছেন না; তিনি অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

টিম কুকের দীর্ঘ নেতৃত্বের অধ্যায়

২০১১ সালে স্টিভ জবসের পর অ্যাপলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন টিম কুক। তার নেতৃত্বে গত দেড় দশকে অ্যাপলের বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সময়েই আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাক এবং সার্ভিস ব্যবসার মাধ্যমে অ্যাপল বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান প্রযুক্তি কোম্পানির অবস্থান ধরে রাখে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে এআই প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বে পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জন টারনাস: নীরব নির্মাতা থেকে শীর্ষ নেতৃত্বে

নতুন সিইও জন টারনাস ২০০১ সালে অ্যাপলে যোগ দেন। দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি অ্যাপলের হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। আইপ্যাড, এয়ারপডস এবং ম্যাক কম্পিউটারের আধুনিক রূপায়ণে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

প্রচারমুখী না হলেও অ্যাপলের ভেতরে তিনি পণ্য উন্নয়নের অন্যতম মূল স্থপতি হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে গত সেপ্টেম্বরে তিনি আইফোন এয়ার উন্মোচন করেন, যা এক দশকের মধ্যে আইফোন ডিজাইনের অন্যতম বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়।

এআই প্রতিযোগিতায় অ্যাপলের চ্যালেঞ্জ

বর্তমানে প্রযুক্তি খাতে সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতা চলছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি এবং অন্যান্য এআই প্ল্যাটফর্ম বাজারে বিপ্লব ঘটালেও অ্যাপল এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো সাফল্য দেখাতে পারেনি।

এর মধ্যেই কোম্পানিটি গুগলের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে, যার মাধ্যমে গুগলের ‘জেমিনি’ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সিরিকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি অ্যাপলের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু নির্ভরশীল কৌশল, যেখানে নিজেদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোই মূল চ্যালেঞ্জ।

নতুন সিইওর সামনে বড় দায়িত্ব

প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জন টারনাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে অ্যাপলকে এআই প্রতিযোগিতায় স্বনির্ভর ও শক্তিশালী করে তোলা। টেকনালিসিস রিসার্চের প্রধান বব ও’ডোনেল বলেন, অ্যাপলের জন্য উন্নত এআই সেবা তৈরি করা এবং অন্য প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা কমানোই হবে তার প্রধান পরীক্ষা।

বর্তমানে অ্যাপল শুধু সফটওয়্যার নয়, হার্ডওয়্যার ক্ষেত্রেও নতুন প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে। মেটার সাশ্রয়ী স্মার্ট চশমা, এনভিডিয়ার এআই চিপ ও নতুন কম্পিউটিং ডিভাইস বাজারে অ্যাপলের অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

নতুন যুগের দিকে অ্যাপল

জন টারনাসের বয়স এখন ৫০ বছর, যা টিম কুকের নেতৃত্ব শুরুর সময়ের সমান। অ্যাপলের ইতিহাসে তুলনামূলকভাবে তিনি কম জনসমক্ষে আসা একজন নির্বাহী হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাকে ধীরে ধীরে নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দুতে আনা হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টারনাসের নেতৃত্বে অ্যাপল ভবিষ্যতে ফোল্ডেবল ফোন, স্মার্ট চশমা এবং এআই-ভিত্তিক ডিভাইসের মতো নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তিতে আরও বেশি বিনিয়োগ করবে।

ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা

অ্যাপলের এই নেতৃত্ব পরিবর্তন শুধু একটি প্রশাসনিক রদবদল নয়; বরং এটি প্রযুক্তি শিল্পের পরবর্তী ধাপের ইঙ্গিত। এআই-নির্ভর বিশ্বে অ্যাপল কতটা দ্রুত নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে, তার ওপরই নির্ভর করবে নতুন সিইও জন টারনাসের সাফল্য।

বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর একটিকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন, তা আগামী কয়েক বছর অ্যাপলের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স