ঢাকা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন: ৮০০ কর্মী গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূলের আবেদন

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ করেছে, নির্বাচনের আগে তাদের প্রায় ৮০০ কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকেই দলটি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।

মামলাটি গ্রহণ করেছে আদালত এবং আগামী বুধবার এ বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদার ও নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ

নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ভারতের নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে রাজ্যজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কমিশনের পক্ষ থেকে সাত হাজারের বেশি বুথকে ‘অতি স্পর্শকাতর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ ছাড়া, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য সহিংসতা ও অস্থিরতা প্রতিরোধে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।

তৃণমূলের অভিযোগ: ‘টার্গেট করে গ্রেপ্তারের তালিকা’

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্য পুলিশ তাদের দলের ৮০০ কর্মীর একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে। দলের দাবি, এই কর্মীদের বিরুদ্ধে আগাম গ্রেপ্তারের পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে না পারেন।

তৃণমূলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী ওই কর্মীরা এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করতে পারেন—এই অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এই পরিস্থিতিকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” হিসেবে দেখছে তৃণমূল।

আদালতের দ্বারস্থ তৃণমূল

সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে আবেদনটি দাখিল করেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

আবেদনে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্য পুলিশ যে তালিকা তৈরি করেছে, তা রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে এবং এর ফলে তৃণমূল কর্মীদের গণগ্রেপ্তারের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি আদালতের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপের আবেদন জানান।

আদালত আবেদনটি গ্রহণ করে বিষয়টি শুনানির জন্য আগামী বুধবার নির্ধারণ করেছে।

রাজনৈতিক উত্তাপ ও মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ

নির্বাচনের আগে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন জনসভায় অভিযোগ করেছেন, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশেই বিরোধী দলের কর্মীদের বিরুদ্ধে দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তাঁর দাবি, নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক শক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশনের অবস্থান ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কমিশনের মতে, সম্ভাব্য সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা রোধে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ।

প্রশাসনিক সূত্রগুলো বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মাঠে নামানো হয়েছে এবং প্রতিটি জেলায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

বিশ্লেষণ: রাজনৈতিক সংঘাতের নতুন মাত্রা

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন ঘিরে এই ধরনের অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলছে। একদিকে শাসক দল দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন বলছে এটি স্বাভাবিক নিরাপত্তা প্রস্তুতির অংশ।

সব মিলিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি রাজ্যের নির্বাচনী পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। ৮০০ তৃণমূল কর্মীকে ঘিরে গ্রেপ্তারের আশঙ্কা এবং আদালতের হস্তক্ষেপের আবেদন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আগামী বুধবারের শুনানির ওপর এখন সবার নজর—যা নির্বাচনী পরিবেশ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নতুন মোড় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স