দেশের উচ্চশিক্ষার অন্যতম বড় আয়োজন—জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়-এর ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ১ম বর্ষ স্নাতক (সম্মান) ভর্তি পরীক্ষা আজ শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী এ পরীক্ষা দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরের নির্বাচিত ১৩৮টি কেন্দ্রে একযোগে নেওয়া হবে।
এবার ৩১টি বিষয়ে ভর্তিচ্ছু মোট ৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। সারা দেশের ৮৮০টি কলেজে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে, যা দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় প্রতিযোগিতামূলক ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
প্রবেশপত্র ও অংশগ্রহণ সংক্রান্ত নির্দেশনা
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যেসব পরীক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (২৪ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত) প্রবেশপত্র ডাউনলোড করতে পারেননি, তারা প্রাথমিক আবেদন ফরম, এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড এবং এসএমএসে প্রাপ্ত তথ্যসহ নির্ধারিত কেন্দ্রে উপস্থিত হতে পারবেন। এসএমএসে পাওয়া রোল নম্বর অনুযায়ী তাদের আসন নির্ধারণ করা হবে এবং হাজিরাপত্রে স্বাক্ষর করতে হবে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—হাজিরাপত্রের ছবির সঙ্গে প্রাথমিক আবেদন ফরমের ছবি মিল না থাকলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না। একইভাবে, যেসব আবেদন কলেজ কর্তৃক নিশ্চিত হয়নি, তারা প্রবেশপত্র পায়নি এবং পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না।
পরীক্ষার্থীদের জন্য ১১টি বাধ্যতামূলক নির্দেশনা
ভর্তি পরীক্ষাকে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ রাখতে পরীক্ষার্থীদের জন্য ১১টি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
প্রবেশপত্র A4 সাইজে প্রিন্ট করে স্বাক্ষর করতে হবে
অনলাইনে আপলোড করা ছবিই চূড়ান্ত; কোনো ধরনের পরিবর্তন গ্রহণযোগ্য নয়
পরীক্ষার অন্তত তিন দিন আগে আসনবিন্যাস জেনে নিতে হবে
নির্ধারিত কক্ষ ও আসনে পরীক্ষা দিতে হবে
পরীক্ষা শুরুর অন্তত এক ঘণ্টা আগে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে হবে
প্রবেশপত্র, হাজিরা ও OMR শিটে একই স্বাক্ষর থাকতে হবে
কালো কালির বলপয়েন্ট কলম ব্যবহার বাধ্যতামূলক
প্রবেশপত্র ও এইচএসসি রেজিস্ট্রেশন কার্ড সঙ্গে আনতে হবে
মোবাইল ফোনসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ
কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত
উত্তরপত্রে কোনো সাংকেতিক চিহ্ন বা মোবাইল নম্বর লেখা যাবে না
পরীক্ষা পদ্ধতি ও মূল্যায়ন কাঠামো
এবারের ভর্তি পরীক্ষা এমসিকিউ (MCQ) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। মোট ১০০ নম্বরের পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা, যেখানে প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর দেওয়া হবে। পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫।
প্রশ্নপত্রের কাঠামো অনুযায়ী—
বাংলা: ২০ নম্বর
ইংরেজি: ২০ নম্বর
সাধারণ জ্ঞান: ২০ নম্বর
বিষয়ভিত্তিক (শাখাভেদে): ৪০ নম্বর
চূড়ান্ত মেধাতালিকা প্রণয়ন করা হবে মোট ২০০ নম্বরের ভিত্তিতে। এর মধ্যে ভর্তি পরীক্ষার ১০০ নম্বরের সঙ্গে এসএসসি/সমমানের জিপিএ থেকে ৪০ নম্বর এবং এইচএসসি/সমমানের জিপিএ থেকে ৬০ নম্বর যোগ করা হবে।
প্রতিযোগিতা ও গুরুত্ব
প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এ ভর্তি পরীক্ষা দেশের অন্যতম বৃহৎ উচ্চশিক্ষা প্রতিযোগিতা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সীমিত আসনের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নির্ধারিত নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করলে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হবে।