ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া হেলেন জেরিন খান-এর দাখিল করা হলফনামায় বিপুল পরিমাণ সম্পদ, ব্যাংক আমানত, ফ্ল্যাট, জমি ও ঋণের তথ্য উঠে এসেছে। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া এ হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি টাকার বেশি, অন্যদিকে ঋণের পরিমাণ ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকারও বেশি।
এক সময় অষ্টম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য থাকা হেলেন জেরিন খান এবারও সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন। নির্বাচনী হলফনামায় তাঁর আর্থিক বিবরণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নগদ অর্থ থেকে শুরু করে ব্যাংক আমানত, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ, স্থায়ী আমানত, ডিপিএস, জমি ও ফ্ল্যাট—বিভিন্ন খাতে তাঁর উল্লেখযোগ্য সম্পদ রয়েছে।
মোট সম্পদ ৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা
হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে হেলেন জেরিন খানের মোট সম্পদের পরিমাণ ৬ কোটি ১৪ লাখ ৪৩ হাজার ৪৯৫ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ রয়েছে ১ কোটি ৪৬ লাখ ১২ হাজার ৭৪৭ টাকা।
ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে ৬৮ লাখ ৩৪ হাজার ৪১৪ টাকা ৭৪ পয়সা, আর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিমাণ ২৬ লাখ ৭ হাজার ১০২ টাকা।
এফডিআর ও ডিপিএসে বিপুল সঞ্চয়
পেশা হিসেবে সমাজসেবা ও রাজনীতি উল্লেখ করা হেলেন জেরিন খানের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রয়েছে ২ কোটি ৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩২৬ টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন ডিপিএস হিসাবেও রয়েছে ৯৫ লাখ টাকা।
এই দুই খাতেই তাঁর মোট সঞ্চয়ের পরিমাণ প্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা, যা মোট সম্পদের বড় অংশ।
গাড়ি, স্বর্ণ ও গৃহস্থালি সম্পদ
হলফনামায় একটি গাড়ির তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে, যার মূল্য ধরা হয়েছে ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা। যদিও গাড়ির ধরন উল্লেখ করা হয়নি।
এ ছাড়া তাঁর কাছে ৫০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে, কিন্তু এর কোনো আর্থিক মূল্য বা উৎস হলফনামায় উল্লেখ করা হয়নি।
ইলেকট্রনিক সামগ্রীর মূল্য ২ লাখ ২২ হাজার টাকা এবং আসবাবপত্রের মূল্য ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে।
জমি ও ফ্ল্যাটে বড় বিনিয়োগ
স্থাবর সম্পদের মধ্যে হেলেন জেরিন খান ৩০ কাঠা জমির ৬টি প্লটের মালিকানা দেখিয়েছেন। মোট ১৬ হাজার ৫৮২ বর্গফুট আয়তনের এসব জমির মূল্য ৭৪ লাখ ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা।
এ ছাড়া ঢাকায় ও কুমিল্লায় তাঁর তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে—
ঢাকার জাপান গার্ডেন সিটি-তে একটি ফ্ল্যাট: ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা
কুমিল্লায় দুটি ফ্ল্যাট: ২৯ লাখ ৬২ হাজার ৪০০ টাকা
সব মিলিয়ে স্থাবর সম্পদেও তাঁর বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য।
ঋণ ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা
সম্পদের পাশাপাশি হলফনামায় ঋণের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে—
বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ: ১ কোটি ৭৩ লাখ ১৩ হাজার ২৭৭ টাকা
স্বামীর কাছ থেকে ঋণ: ৬৫ লাখ টাকা
সব মিলিয়ে তাঁর মোট ঋণের পরিমাণ ২ কোটি ৩৮ লাখ ১৩ হাজার ২৭৭ টাকা।
মামলার তথ্যও উল্লেখ
হলফনামায় আরও বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের পর তাঁর বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা হয়েছিল। তবে এসব মামলায় পরে তিনি অব্যাহতি বা খালাস পেয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও গুরুত্ব
হেলেন জেরিন খানের এই হলফনামা রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ। সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে আগ্রহ থাকে। তাঁর দাখিল করা সম্পদ ও ঋণের এই হিসাব রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষ করে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ, বিপুল ব্যাংক আমানত এবং উল্লেখযোগ্য ঋণের তথ্য ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হবে। একই সঙ্গে সম্পদের উৎস, স্বর্ণের মূল্য ও ঋণের প্রকৃতি নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিতের প্রয়োজন
নির্বাচনী হলফনামা প্রার্থীর আর্থিক অবস্থান ও স্বচ্ছতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে শুধু তথ্য প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়—এসব সম্পদের উৎস, কর পরিশোধ এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
হেলেন জেরিন খানের হলফনামায় প্রকাশিত সম্পদ ও ঋণের এই বিবরণ এখন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের নজরে এসেছে এবং এটি আগামী দিনে রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।