ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্রে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী বৃষ্টির মৃত্যুর খবর জানাল পরিবার

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা-এ নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর ঘটনায় নতুন করে শোক ও উদ্বেগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিখোঁজদের একজন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি আর জীবিত নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর ভাই। যদিও এখনো তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

একই ঘটনায় এর আগে আরেক শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ।

পরিবারের দাবি: বৃষ্টি আর বেঁচে নেই

নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন—
“আমার বোন আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”

পোস্টটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

এখনো উদ্ধার হয়নি মরদেহ

তবে পরিবারের দাবি সত্ত্বেও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বৃষ্টির মরদেহ উদ্ধার করা হয়নি। ভাই জাহিদ হাসান প্রথম আলোকে জানান, স্থানীয় পুলিশ তাদের জানিয়েছে যে মরদেহ উদ্ধার নিশ্চিত করা যায়নি।

তার ভাষায়,
“পুলিশ আমাদের জানিয়েছে, এখনো মরদেহ পাওয়া যায়নি। তবে কিছু ফরেনসিক ইঙ্গিত রয়েছে, যা নিয়ে তারা কাজ করছে।”

তিনি আরও জানান, সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহ ধ্বংস বা গোপন করার চেষ্টা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিখোঁজের পটভূমি

গত ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি এবং জামিল আহমেদ লিমন। দুজনই পড়াশোনা করতেন University of South Florida-এ।

বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন
লিমন ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন

নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন ক্যাম্পাসে তাদের সর্বশেষ দেখা যায় বলে জানা গেছে।

লিমনের মরদেহ উদ্ধার

গতকাল শুক্রবার ফ্লোরিডার হিলসবরো কাউন্টি পুলিশ ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মরদেহটি ছিল ক্ষতবিক্ষত অবস্থায়।

সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার

ঘটনার তদন্তে হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ (২৬) নামের এক মার্কিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি লিমনের সঙ্গে একই কক্ষে থাকতেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তাকে তার পারিবারিক বাসা থেকে আটক করা হয় এবং ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফরেনসিক ইঙ্গিত ও তদন্ত

পরিবারের বরাতে জানা গেছে, বৃষ্টির বাসায় রক্তের মধ্যে পাওয়া দেহাংশের সঙ্গে তাঁর ডিএনএ মিল পাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। তবে এটি এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে এবং নিখোঁজ দ্বিতীয় শিক্ষার্থীর সন্ধানেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শোক ও উদ্বেগ

দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর নিখোঁজ ও একজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটিতে গভীর শোক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।



একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই মেধাবী বাংলাদেশি গবেষকের নিখোঁজ ও মৃত্যুর আশঙ্কা ঘিরে পুরো ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে। একদিকে পরিবারের শোক ও অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে তদন্তের ধীর অগ্রগতি—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্ব পাচ্ছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত না হলেও পরিস্থিতি ইতোমধ্যে গভীর মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত সংকটের চিত্র তুলে ধরেছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স