ঢাকা

যুক্তরাষ্ট্র সফরে কংগ্রেসে বক্তব্য রাখলেন রাজা চার্লস, আয়োজিত হলো রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : ইং
যুক্তরাষ্ট্র সফরের দ্বিতীয় দিনে ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় King Charles III মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিয়েছেন এবং একই দিন হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেন। সফরকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র–যুক্তরাজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করার বার্তা উঠে আসে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে।

কংগ্রেসে ঐতিহাসিক ভাষণ

চার দিনের সফরের দ্বিতীয় দিনে মার্কিন কংগ্রেসে ভাষণ দিতে গিয়ে রাজা চার্লস যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে “আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক শুধু কূটনৈতিক নয়, বরং মূল্যবোধ ও ঐতিহাসিক বন্ধনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

তিনি নিজেকে ব্রিটিশ রাজপরিবারের ১৯তম শাসক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি তিনি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। কংগ্রেসকে তিনি এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেন, যেখানে জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতিফলন ঘটে।

রাজা তাঁর বক্তব্যে প্রয়াত মা Queen Elizabeth II-এর কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, তাঁর মা ১৯৯১ সালে একই কক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন, যা পারিবারিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

ব্রিটিশ হাস্যরস ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ মিশিয়ে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে একাধিকবার করতালি ও দাঁড়িয়ে অভিবাদনের দৃশ্য দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্র–যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ওপর জোর

ভাষণে রাজা চার্লস বলেন, যুক্তরাজ্যের জনগণের পক্ষ থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে এসেছেন। বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের জোট আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজ

একই দিন সন্ধ্যায় রাজা চার্লস ও তাঁর স্ত্রী কুইন কনসর্ট Queen Camilla হোয়াইট হাউসে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেন। সেখানে তাঁদের অভ্যর্থনা জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি Melania Trump।

নৈশভোজে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজা চার্লস যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের জোটকে “একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বে অপরিহার্য অংশীদারিত্ব” হিসেবে অভিহিত করেন।

প্রতীকী উপহার ও ঐতিহাসিক স্মৃতি

নৈশভোজে রাজা চার্লস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি বিশেষ ঘণ্টা উপহার দেন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন সময়ের HMS submarine-এর অংশ ছিল। এই সাবমেরিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল।

রাজা বলেন, এই উপহার দুই দেশের দীর্ঘ ইতিহাস ও ভবিষ্যৎ সহযোগিতার “উজ্জ্বল প্রতীক”।

ট্রাম্পের বক্তব্য

নৈশভোজে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে “অতুলনীয় বন্ধুত্ব” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

উপস্থিতি ও কূটনৈতিক গুরুত্ব

নৈশভোজে মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দুই দেশের বিভিন্ন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর যুক্তরাষ্ট্র–যুক্তরাজ্য সম্পর্ককে কৌশলগতভাবে আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : নিউজ ডেস্ক

কমেন্ট বক্স